বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ইন্টারনেটের দাম কমালো সরকার

জুন ২৭, ২০১৯ | ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও প্রসার ঘটাতে ফের ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত এই মূল্য দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাশ্রয়ী ডিজিটাল অবকাঠামো’ শীর্ষক এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ম. শেফায়েত হোসেন বৈঠকের তথ্য জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যেন কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকেই এই সরকার ধাপে ধাপে ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়ে আসছে। আরও একবার সেই দাম কমানো হলো। এটিই দেশের ইতিহাসে ব্যান্ডউইথের সর্বনিম্ন দাম বলে জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।

এর আগে ২০০৯ সালের আগস্টে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে ২০১১ সালের এপ্রিলে ১২ হাজার টাকা, ২০১২ সালের এপ্রিলে ৮ হাজার টাকা, ২০১৪ সালের এপ্রিলে ২৮শ টাকা এবং ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যান্ডউইথের দাম প্রতি এমবিপিএস সর্বোচ্চ ৯৬০ টাকা ও সর্বনিম্ন ৩৬০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

ব্যান্ডউইথের নতুন দাম

আইআইজিগুলোর জন্য আইপি ট্রানজিট: ৫০০-৯৯৯ পর্যন্ত এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের জন্য এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৫০ টাকা, ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ (টাকা) ৩৩৫ টাকা। ৫০০০০-এর বেশি এমিবিপিএস ব্যান্ডউইডথের জন্য এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩০০ টাকা, ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৮৫ টাকা।

আইএসপি’র জন্য আইপি ট্রানজিট: ৫-১৯ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের জন্য (শুধুমাত্র উপজেলা বা ইউনিয়ন থেকে) এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৪০০ টাকা, ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৭৫ টাকা। ৪০০০০-এর বেশি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের জন্য এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩১০ টাকা। ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৯০ টাকা।

বিটিসিএল লোকাল কনটেন্ট ট্রান্সমিশন চার্জ: সংযোগের স্থান বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় ট্রান্সমিশন চার্জ প্রতি এমবিপিএস ৩০ টাকা, সংযোগের স্থান ঢাকার বাইরে হলে ট্রান্সমিশন চার্জ প্রতি এমবিপিএস ১০০ টাকা।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য: ৫-৯৯ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথের জন্য এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩০০ টাকা, নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৭০ টাকা। ৩০০০ এমবিপিএস ও এর বেশি ব্যান্ডউইথের জন্য এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২০০ টাকা, ন্যূনতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ (টাকা) ১৮০।

সরকারি অফিস, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট অফিসের জন্য: ৫-৪৯ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইড্থ এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৯৫ টাকা, নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৫৫ টাকা। ৩০০০ এমবিপিএসের বেশি ব্যান্ডউইথের জন্য এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৫০ টাকা, ন্যূনতম ৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ  ২২৫ টাকা।

ভিপিএন সেবা: দেশব্যাপী এক রেট ১-৫ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথের জন্য প্রতি এমবিপিএস ৩০০ টাকা, ১০০০০ বা বেশি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের জন্য প্রতি এমবিপিএস ৩০ টাকা।

এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় গ্রাহকদের ওপরে বর্ণিত চার্জ থেকে শতকরা ১০ ভাগ ডিসকাউন্ট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে লিনাক্স ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজ ও উইন্ডোজ ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজের ব্যান্ডউইডথের দামও কমানো হয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে প্রভাব পড়বে না!

এদিকে, সরকার ব্যান্ডউইথের দাম কমালেও গ্রাহক পর্যায়ে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক।

সারাবাংলাকে তিনি বলেন, আমরা ইন্টারনেটের দাম আগেই কমিয়েছি। সরকার এখন সেই দামের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে সামনে ইন্টারনেটের দাম কমার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।

ইমদাদুল হক বলেন, বিটিসিএল ব্যান্ডইউথের ব্যবহার ৬০ শতাংশ। বাকি ৪০ শতাংশ ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবলের (আইটিসি)। ফলে বিটিসিএল যদি তাদের সক্ষমতা বাড়ায়, তবেই গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমতে পারে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন