বিজ্ঞাপন

খেলাপি ঋণ অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে: আইএমএফ

June 27, 2019 | 11:36 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)‘র একটি প্রতিনিধি দল। দশ দিনের মিশন শেষে আইএমএফ‘র প্রতিনিধি দলের প্রধান দায়সাকু কিহারা এসব কথা বলেন।

এশিয়া এবং প্যাসিফিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দায়সাকু কিহারার নেতৃত্বে আইএমএফের আর্টিক্যাল-৪ এর ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ১৬ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ঢাকা সফর করেন। সফরে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা দিক তুলে ধরনের দায়সাকু কিহারা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগুচ্ছে। দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। অথচ দেশের ব্যাংকিং খাতে ধস অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা দেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

দায়সাকু কিহারা বলেন, অর্থনীতি এগুলেও ব্যাংকিং খাতে ধস নামছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। খেলাপি ঋণ কমাতে টাইম-বাউন্ড কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ব্যাংকিং সুপারভিশন বাড়াতে হবে, খেলাপিদের আইনীসহায়তা বন্ধ করতে হবে। খেলাপিদের পুন:তফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালা আরও কঠোর করা দরকার। সবক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যাংকসহ সব ব্যাংকগুলোতে সংস্কারের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন

দায়সাকু কিহারা বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। কিন্তু মাল্টিপল রেট কার্যকর করা অনেক চ্যালেঞ্জের। এতে রাজস্ব আহরণে প্রভাব ফেলবে। রাজস্ব নীতিতে সংস্কার করতে হবে। এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়ন করতে হবে।

আইএমএফ প্রধান বলেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি বিনিয়োগে অপচয় রোধ করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় পরিকল্পনার আলোকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল এতে সন্দেহ নেই। তবে, অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে, দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জিএস/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন