বিজ্ঞাপন

হাতে লিখুন, মস্তিষ্ক ভাল রাখুন

July 1, 2019 | 8:04 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ শতকের জনপ্রিয় সেই হাতের লেখা আমাদের সবারই চেনা। পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে লেখা বাঁকানো এক একটা অক্ষর। সম্প্রতি কি-বোর্ডের বদৌলতে জনপ্রিয় এই স্টাইলটি প্রায় হারাতে বসেছিল। হাতের লেখা আবার ফিরে আসছে। বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা হয়তো টাইপ করেই যোগাযোগ করতে পারছি। কিন্তু যারা এর সাথে পরিচিত নন তাদের তো আর হাতে লিখতে বাঁধা নেই। তো,সেই স্টাইলে হাতে লিখে কিভাবে তাঁরা এগিয়ে থাকছেন, চলুন জেনে আসি।

বিজ্ঞাপন

চিন্তা ও শব্দের প্রবাহ চালু রাখে

যেহেতু মানুষ কেবলমাত্র শব্দ শুনে চিন্তা করতে পারে না। চিন্তা করতে হলে মানুষের দরকার হয় কাঠামোগত ধারণা। তাই ফাঁকা ফাঁকা করে টাইপ করা আলাদা আলাদা ছাপার শব্দ মানুষকে চিন্তা করতে ততোটা সাহায্য করতে পারে না। যতটা পারে বাঁকানো হাতের প্যাঁচানো লেখা। এই তথ্য কোন অনুমান নয়। ১৯৭৬ সালে জার্নাল একাডেমি থেরাপি’র চালানো এক অনুসন্ধানে এ ফলাফল পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

মনঃসংযোগ ধরে রাখে

স্যাট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা হাতে লেখেন তাঁরা রচনা অংশে অন্যদের চেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে থাকেন, জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। যখন একজন হাতের লেখায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন, তখন তাঁর চিন্তা এবং কাজের মধ্যে কোন ব্যবধান থাকে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,ব্লক অক্ষরে টাইপ করার সময় থেমে থেমে চিন্তা করতে হয় কিন্তু হাতের লেখায় সবসময় বিষয়বস্তুর উপর মনঃসংযোগ রাখা যায়।

সম্পূর্ণ মস্তিষ্ক সচল রাখে

হাতের লেখা নিছকই আর দশটা ছাপার অক্ষরে লেখার মত নয়। স্নায়ুতন্ত্রের নতুন এক রাস্তা খুলে দিতে পারে হাতের লেখা। এমনকি হাতের লেখা পড়লেও মস্তিষ্কের ডান হেমেস্ফিয়ার সচল হয়ে যায়। তবে গবেষণা বলছে  লেখা পড়ার চেয়ে হাতে লিখতে গেলেই বাম ও ডান হেমেস্ফিয়ারের সবচেয়ে ভালো সাড়া পাওয়া যায়।

দ্রুত তথ্য বাছাইয়ে সাহায্য করে

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, ক্লাসের লেকচার নোট নেওয়ার সময় টাইপের চেয়ে হাতে লেখা বেশি প্রচলিত। কারন টাইপের সময় আমরা শুধু শুনে শুনে লিখতেই থাকি। কিন্তু হাত লিখতে গেলে আমাদেরকে ভাবতে হয়,শব্দগুলোর গুরুত্ব বুঝে লিখতে হয়। তখনই শব্দগুলোর সাথে মস্তিষ্কের একটা সংযোগ তৈরী হয়। সেখান থেকে আমরা দ্রুত তথ্য বাছাই করতে সাহায্য পেয়ে থাকি।

পেশীর উপর নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে

হাতে লেখার সময় বিভিন্ন চর্চা চালু রাখতে হয়। যা পেশীর উপর একধরনের নিয়ন্ত্রণ তৈরী করতে সাহায্য করে। যাঁদের পেশীর গঠনগত সমস্যা থাকে তাঁরা হাতে লেখার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

বানানে দক্ষ করে তোলে

হাতে লেখার সময় একটি শব্দ একই সাথে লিখতে এবং ভাবতে হয়। তাই সঠিক বানান খুঁজে বের করার জন্য টাইপ করার চেয়ে হাতে লেখা একটি কার্যকর পদ্ধতি। যারা হাতে লিখেন, তাদের বানান ভুল করার সম্ভাবনা যারা টাইপ করেন তাদের চেয়ে কম।

প্রতিবার কাগজ কলম নিয়ে বসলেই আমরা সৃষ্টিশীল নতুন এক বাঁক ক্যালিগ্রাফিতে গিয়ে পৌছাতে পারি। এই অভিনবত্ব আপনি কেবল কাগজে হাতে লিখলেই পাবেন টাইপের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন