বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘আমি এখন স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি’

জুলাই ২, ২০১৯ | ১২:১৪ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বরগুনা: ‘আমার সামনেই আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওরা। আমি চেষ্টা করেছি, রক্ষা করতে। কিন্তু ব্যার্থ হয়েছি। দুনিয়ার কোনো মেয়ের যেন এমন নির্মমতা দেখতে না হয়’।

বিজ্ঞাপন

বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যার এক নম্বর আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর খবরে এমন প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করেছেন নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে মিন্নি বলেন, ‘আমি এখন স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

বিজ্ঞাপন

মামলার বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান মিন্নি।

নয়নের মৃত্যুর কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে তো ফিরে পাবো না, তবে ছেলের আত্মা অন্তত একটু হলেও শান্তি পাবে। আমার একমাত্র ছেলেকে আমি যাদের কারণে হারিয়েছি, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখে যেতে চাই’।

নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি। আমি মনে করি আমরা নয়নের হত্যার বিচার পেয়েছি। আর যেন কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, কোনো স্ত্রীকে এভাবে স্বামী হারাতে না হয়।’

বাকি আসামিদেরও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করে কিশোর বলেন, ‘এ ঘটনা দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযদ্ধে’ রিফাত হত্যার এক নম্বর আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের মৃত্যু হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নয়নের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় আটটি মামলা রয়েছে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদি হয়ে ২৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। রিফাতকে হত্যার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সারাবাংলা/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন