বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ভারতকে কাঁপিয়েই হারলো টাইগাররা

জুলাই ২, ২০১৯ | ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে জিততে হতো বাংলাদেশকে। ভারতের বিপক্ষে ২৮ রানে হেরেছে মাশরাফির দল। তবে, টিম ইন্ডিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েই হেরেছে বাংলাদেশ। ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ৩১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪৮ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২৮৬ রান। আগামী ৫ জুলাই বাংলাদেশ নামবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। ৮ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ভারত। নিউজিল্যান্ড ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে। চারে থাকা ইংল্যান্ড ৮ ম্যাচে সংগ্রহ করেছে ১০ পয়েন্ট। ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে পাকিস্তান। ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে শ্রীলঙ্কা। ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সাতে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে আটে। ৮ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮ ম্যাচে ০ পয়েন্ট নিয়ে দশে আফগানিস্তান।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বার্মিংহামের এজবাস্টন স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায়। গাজী টেলিভিশন ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলপতি বিরাট কোহলি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে টিম ইন্ডিয়া তোলে ৩১৪ রান। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ওপেনার রোহিত শর্মা। ফিফটির দেখা পান আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নেন পাঁচটি উইকেট।

ভারতের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৮০ রান। বোলিংয়ে এসে নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ৩০তম ওভারে রোহিত শর্মাকে আউট করেন সৌম্য সরকার। সৌম্যের অফকাটারে এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে ক্যাচ নেন লিটন দাস। আউট হওয়ার আগে রোহিত শর্মা দ্বাদশ বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে সংগ্রহ করেন ১০৪ রান। ৯২ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ম্যাচের ৫ম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে রোহিত শর্মার (৯) ক্যাচ ফেলে দেন তামিম ইকবাল। এর পরে এই ওপেনার আর পিছু ফিরে তাকাননি। বাংলাদেশের বোলারদের সাবলীলভাবে খেলে নিজের ২৬তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রোহিত শর্মা।

বিজ্ঞাপন

দলীয় ১৯৫ রানের মাথায় বিদায় নেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল। রুবেল হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। তার আগে ৯২ বলে ছয়টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৭৭ রান। দলীয় ২৩৭ রানের মাথায় বিদায় নেন দলপতি বিরাট কোহলি। ইনিংসের ৩৯তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মিড উইকেটে রুবেলের হাতে ধরা পড়েন আগের পাঁচ ইনিংসে টানা ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলা কোহলি। সাজঘরে ফেরার আগে ২৭ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে কোহলি করেন ২৬ রান। এক বল পরেই বিদায় নেন হার্দিক পান্ডিয়া। একই ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ফিজ।

এরপর ইনিংস টেনে নিতে থাকেন রিশব পান্ত এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি। দলীয় ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে সাকিব ফিরিয়ে দেন রিশবকে। ৪১ বলে ছয়টি চার আর একটি ছক্কায় ৪৮ রান করে মোসাদ্দেকের তালুবন্দি হন রিশব পান্ত। সাকিব নিজের শেষ ওভারে গিয়ে প্রথম উইকেট পান। ইনিংসের ৪৮তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন দীনেশ কার্তিককে। ব্যক্তিগত ৮ রানে ফিজের অফকাটারে কাটা পড়েন কার্তিক, ক্যাচ তুলে দেন মোসাদ্দেকের হাতে। দলীয় ২৯৮ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেট হারায় ভারত। শেষ ওভারে মোস্তাফিজ তুলে নেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। সাকিবের হাতে ধরা পড়ার আগে ধোনি ৩৩ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ৩৫ রান। শেষ ওভারে রানআউট হন ভুবনেশ্বর কুমার। শেষ বলে মোস্তাফিজ বোল্ড করেন বুমরাহকে।

সাকিব ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় তুলে নেন একটি উইকেট। মোসাদ্দেক হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সৌম্য সরকার ৬ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট। রুবেল হোসেন ৮ ওভারে ৪৮ রানে নেন একটি উইকেট। মাশরাফি ৫ ওভারে ৩৬ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি। সাইফউদ্দিন ৭ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোস্তাফিজ ১০ ওভারে ৫৯ রানে তুলে নেন পাঁচটি উইকেট।

এই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গায় একাদশে এসেছেন সাব্বির রহমান। আর মেহেদি হাসান মিরাজের জায়গায় একাদশে এসেছেন পেসার রুবেল হোসেন। রুবেল এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৯ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। এদিকে, ভারতের একাদশে এসেছেন পেসার ভুবনেশ্বর কুমার এবং দীনেশ কার্তিক। বাদ পড়েছেন স্পিনার কুলদীপ যাদব এবং কেদার যাদব।

৩১৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ের শুরুটা করেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় দশম ওভারে বিদায় নেন তামিম। চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামেন দেশসেরা এই ওপেনার। মাইলফলকের ম্যাচে তামিম করেন ২২ রান। মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩১ বলে তিনটি বাউন্ডারির দেখা পান তামিম। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বিদায় নেন সৌম্য সরকার। ৩৮ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ৩৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে কোহলির হাতে ধরা পড়েন সেট ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।

এরপর জুটি গড়েন সাকিব-মুশফিক। ইনিংসের ২৩তম ওভারে ৪৭ রানের জুটি ভাঙেন যুভেন্দ্র চাহাল। ২৩ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ২৪ রান করে মোহাম্মদ শামির হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। দলীয় ১২১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৬২ রানের মাথায় বিদায় নেন লিটন দাস। ইনিংসের ৩০তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে ছক্কা হাঁকানোর এক বল পরেই দীনেশ কার্তিকের তালুবন্দি হন লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে করেন ২২ রান। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে বোল্ড হওয়ার আগে মোসাদ্দেক হোসেন করেন মাত্র ৩ রান।

চলতি বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে ছয়টিতেই ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলেন সাকিব। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে দীনেশ কার্তিকের হাতে ধরা পড়ার আগে সাকিব করেন ৬৬ রান। আর ৩টি রান করতে পারলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আবারো শীর্ষে উঠতেন সাকিব। তার ৭৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি বাউন্ডারি। এরপর সাব্বির-সাইফ দলকে টেনে নিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৬৬ রান। ইনিংসের ৪৪তম ওভারে বুমরাহর বলে বোল্ড হন সাব্বির। বিদায়ের আগে ৩৬ বলে পাঁচটি চারে ৩৬ রান করেন সাব্বির। ভুবনেশ্বর কুমারের করা ৪৫তম ওভারে বিদায় নেন ৫ বলে এক ছক্কায় ৮ রান করা মাশরাফি।

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলার পথে ফিফটি হাঁকান সাইফউদ্দিন। রুবেল ৯ রান করে বিদায় নেন। ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন সাইফ। তার ৩৮ বলের ইনিংসে ছিল ৯টি চারের মার।

ভারতের পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তুলে নেন চারটি উইকেট। ১০ ওভারে ৬০ রান খরচায় তিনটি উইকেট তুলে নেন হার্দিক পান্ডিয়া। একটি করে উইকেট পান যুভেন্দ্র চাহাল, ভুবনেশ্বর কুমার এবং মোহাম্মদ শামি।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, রুবেল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং সাব্বির রহমান।

ভারত একাদশ: বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা (সহ-অধিনায়ক), রিশব পান্ত, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক), দীনেশ কার্তিক, লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়া, জাসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ শামি এবং যুভেন্দ্র চাহাল।

বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনলাইনে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি বা চার্জ ছাড়াই দেখতে পারবেন র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইট www.rabbitholebd.com-এ। এছাড়া র‍্যাবিটহোলের অ্যাপেও দেখা যাবে প্রতিটি ম্যাচ। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/UNCWS2 (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে। তাছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/vJjyyL (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন