বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যে দ্বীপের বাসিন্দা হলেই ৪৫০ পাউন্ড ভাতা, থাকা-খাওয়া ফ্রি!

জুলাই ৪, ২০১৯ | ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

বিচিত্রা ডেস্ক

বিশ্বে কোনও কিছুই আর মুফতে মেলে না, এ কথা এখন প্রায়শঃই বলা হয়। কিন্তু গ্রিস দেশে এখন এমন এক অফার মিলছে যা ফ্রিতো বটেই, উল্টো আরও কিছু অর্থ ঢুকিয়ে দেওয়া হবে পকেটে। কথা হচ্ছে, অ্যান্টিকিথেরা নামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি দ্বীপ নিয়ে। ছবির মতো সুন্দর দ্বীপটির বাসিন্দা মোটে ২৪ জন। গ্রিক সরকার চাইছে এই সংখ্যা অন্তত ৩০০ জনে নিয়ে যেতে। আর সেজন্য ঘোষণা দিয়েছে- স্বেচ্ছায় যে যাবে তাকে মাসে ৪৫০ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি প্লট দেওয়া হবে। আর সারাবছরের খাওয়া ফ্রি।

বিজ্ঞাপন

সুর্যালোকে উজ্জ্বল অ্যান্টিকিথেরা গ্রিসের ক্রিট ও কিথেরা দ্বীপের মাঝের একটি অংশ। কিথেরা ও মোনেমভাসিয়ার বিশপ এবং ছোট্টদ্বীপটির স্থানীয় পরিষদ চাইছে এখানে নতুন নতুন বাসিন্দারা তাদের আবাস গাড়ুক। বিশেষ করে যেসব পরিবারে অন্তত তিনটি সন্তান রয়েছে তাদের ওখানে নিয়ে যেতে চান তারা। স্থানীয় পরিষদ বলছে, নতুন যে পরিবারটিই এখানে আসবে তাদের কাজ দেওয়া হবে। জেলে, কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক কিংবা খাদ্য প্রস্তুতকারকের চাকরি একেবাড়ে পাকা। গেলেই কাজ মিলবে। দ্বীপটির প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রিয়াস চারচালাকিস বললেন, এই পেশাগুলোতে আয়ও বেশ ভালো হবে।

দ্বীপটি উড়ালপথে এথেন্স থেকে ৪৫ মিনিটের দূরত্বে হলেও এটি রাজধানী প্রশাসনেরই আওতায় পরিচালিত। আর এটি অ্যাটিকা অঞ্চলের অংশ। অ্যান্টিকিথেরার তিনটি গ্রাম- পোরামোস, গ্যালানিয়ানা ও চারচালিয়ানা।

এ সংক্রান্ত খবরে গ্রিক রিপোর্টার লিখছে, নতুন বাসিন্দা চেয়ে এরইমধ্যে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে দ্বীপটির কর্তৃপক্ষ। এতে সবশেষ খবর পর্যন্ত মাত্র ১৫টি আবেদন পড়েছে। চারচালাকিস জানালেন, নতুন যারা যাবে তাদের বরণ করে নিতে পুরোনো বাসিন্দারা পুরোপুরি প্রস্তুত। চারচালাকিসের মা পেনেলোপ চারচালাকিসের মুখেও একই কথা। তারা চান, দ্বীপটি মানুষে মানুষে ভরে উঠুক। তিনি বলেন, অতীতের দিনগুলো খুব মনে পড়ে। এক সময় এখানে স্কুলে ৭০টি বাচ্চা পড়তো। আর আমরা ৮০০ জনের বেশি বাসিন্দা ছিলাম। আমাদের দুই জন ধর্মজাযক ছিলেন। আর আজ এখানে একটি শিশুও নেই।

দ্বীপটিতে বিদ্যুতের আলো আছে, টেলিফোন লাইন রয়েছে আর রয়েছে ইন্টারনেটও। একটাই ঝুঁকি, ঝড়ো আবহাওয়ায় এখানকার পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে ওঠে। তবে ঘরগুলো বেশ শক্ত করে বানানো। আর বৃষ্টির পানি ধরে রেখে খাবার পানির ব্যবস্থা করতে হয়।

সে যাই হোক, ঝুঁকিতো কিছুটা থাকবেই। সেটুকু বাদ দিলে এখনে জীবনযাপন বেশ বিলাশবহুলই বলতে হবে। সমুদ্রের পাখি দেখা আর রাতের আকাশের তারা দেখার জন্য এক দারুণ জায়গা। আর সবচেয়ে উপভোগ্য সমুদ্রের নিটোল পানিতে ঝাপিয়ে গোসল।
দ্বীপটির ইতিহাসও বেশ উজ্জ্বল। অ্যান্টিকিথেরা মেকানিজম নামে একটি ব্রোঞ্জের তৈরি মেশিন এখানে আবিষ্কৃত হয় ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে। যেটি মূলতঃ একটি অ্যানালগ কম্পিউটার। জ্যোতির্বিদ্যায় যার ব্যবহার ছিলো। প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বলেই এর খ্যাতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন