বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চুরির শাস্তি মুখে চুনকালি,অতঃপর…

জুলাই ৫, ২০১৯ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

বিচিত্রা ডেস্ক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের অদূরেই এক ডুরিয়ান (কাঁঠালের মত দেখতে এক ধরনের মালয়েশিয়ান ফল) বাগান। এক কৃষকের মালিকানায় সে বাগানে খুব ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষক বেচারা খুশি হতে পারছে না। সারাদিন কাজ করে সে বাড়ি ফেরে কিন্তু সকালে ফিরে এসে দেখে বাগান থেকে কিছু ফল চুরি হয়ে যায়। এমনিতেই ডুরিয়ান বেশ দামী,বাজারে চাহিদাও ভালো। কিন্তু কৃষকের তো মাথায় হাত। কিভাবে ফল চুরি হয় সে বুঝতে পারে না। তবে সে নজর রাখে আর তক্কে তক্কে থাকে।

বিজ্ঞাপন

দিন কয়েক যেতে না যেতেই স্বস্তি ফিরে আসে কৃষকের মনে। চোর ধরা পড়েছে। তবে চোর কোন মানুষ না একটা মুখপোড়া বানর। কৃষকের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে গেছে বেচারা। চোর হাতের কাছে পেয়েই মহাক্ষ্যাপ্পা হয়ে ওঠে সেই কৃষক।

বানরটি ধরা পড়ে তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বানরটির হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। তারপর বানরের পিঠে একটা ভারী ডুরিয়ান ফল চাপিয়ে দেয় যেন সে কোন মতেই পালাতে না পারে। তারপর লাল রংয়ের স্প্রে পেইণ্ট দিয়ে মুখ আর শরীরে রং করে দেয়। আর রাগে গজগজ করতে থাকে। বানরটিকে শাসিয়ে কৃষক বলতে থাকে, এবারের মত ছেড়ে দিলাম। যা গিয়ে তোর সঙ্গী-সাথীদের বলে দিবি যেন এখানে আর না আসে। খাওয়ার দরকার হলে অন্য কোন জায়গা খুঁজে নিবি। এখানে যেন আর না দেখি।

এখানেই শেষ হলে বেশ ভালো হতো। কিন্তু এই চোর ধরা আর তাকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোপের মুখে পড়ে সেই কৃষকই। সেই ভিডিওটি দেখে মন্তব্যের ঘরে ঝড় তুলেছেন ব্যবহারকারীরা। তারা বলছেন...

বিজ্ঞাপন

‘এই ডুরিয়ান ফলগুলো তো প্রকৃতিরই দান। এখানে সবার সমান ভাগ আছে। যে কেউ খেতে পারে। এ জন্যে একটা অবলা প্রানীকে শাস্তি দেওয়া মানায় না। মানুষ এতো লোভী কেন?’

‘নিশ্চয়ই এর বিচার হবে। এই আঘাত আবার এই লোকটির উপরই ফিরে আসবে’

‘বেচারা বানর। খারাপই লাগছে। ওকে খুব ভীত দেখাচ্ছিল’

‘আশা করি বানরটি এই নিষ্ঠুর আঘাত দ্রুতই কাটিয়ে উঠবে। খাবার খুঁজে খেয়ে সে তো কোন অন্যায় করে নি’

বন্যপ্রাণি সংরক্ষণবাদীরাও এই ঘটনায় বেশ সোচ্চার হয়েছেন। তাঁরা এই ঘটনাকে অমানবিক বলেছেন। এছাড়াও স্প্রে পেইন্টের কারণে বানরটির স্বাস্থ্য ঝুঁকির ব্যাপারেও তাঁরা বেশ উদ্বিগ্ন।

ডেইলি মেইল অবলম্বনে

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন