বিজ্ঞাপন

হজ ব্যবস্থাপনা উন্নত হলেও বাড়েনি সেবার মান

July 6, 2019 | 4:24 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হলেও বাড়েনি হজ ক্যাম্পের সক্ষমতা এবং অন্যান্য সুবিধা। হজ গমনেচ্ছুরা বলছেন, ডরমেটরিতে সিটের সমস্যা, টয়লেট সমস্যা, মশার কামড়, ক্যাম্পের রেঁস্তোরায় খাবারের দাম বেশি রাখা আর অঞ্চলভিত্তিক মোয়াল্লেম না থাকায় দূর থেকে আসা লোকজন বিপাকে পড়ছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ জুলাই) ক্যাম্পে আসা হজ গমনেচ্ছুদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রংপুর থেকে হজ ক্যাম্পে এসেছেন রবিউল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন। তারা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডরমেটরিতে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আসন সংখ্যার তুলনায় কয়েকগুণ মানুষকে গাদাগাদি করে রয়েছেন। টয়লেটের অবস্থাও নাজুক। দীঘর্ক্ষণ টয়লেটের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মশার কামড়ও সহ্য করতে হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

‘এছাড়া হজ ক্যাম্পের রেঁস্তোরায় খাবারের মান খারাপ থাকলেও দাম বেশি। আর স্থানীয় মোয়াল্লেম না থাকায় কোথায় যাব, কি করব কিছুই বুঝতে পারি না। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে’, বলেন তারা।

রাজশাহী থেকে ক্যাম্পে এসেছেন শরীফ মাহমুদ। কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে, জায়গা কম। দেশেই যদি আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হয় তাহলে সৌদি গিয়ে সমস্যায় পড়লে কাকে বলব?’ তবে সৌদি ইমিগ্রেশন এবার ঢাকায় হওয়াতে তিনি খুশি।

সমস্যা নিয়ে হজ ক্যাম্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘যারা হজ করতে যাবেন তারা ২-৩ দিন আগেই ক্যাম্পে এসে রিপোর্ট করছেন। আমরা প্রথমে ১০ হাজার মানুষের কথা মাথায় রেখে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন এখানে কয়েক হাজার মানুষ থাকছেন। ফলে অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। ক্যাম্পে দেড় হাজার জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পুরুষ ও মহিলা ডরমেটরিতে প্রায় ৪ হাজার লোক অবস্থান করছে। ফলে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক।’

হজ ব্যবস্থাপনা উন্নত হলেও বাড়েনি সেবার মান

মশার কামড়, টয়লেট সমস্যা ও খাবারের দাম রেঁস্তোরায় বেশি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টয়লেট সমস্যা থাকতে পারে, লোক বেশি হলে সমস্যা হবেই।’ তবে মশার কামড় ও খাবারের দামের বিষয়ে তিনি দ্রুতই সমাধান করবেন বলে জানান।

‘হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম ও ভোগান্তি নেই’

এসব বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘হজ ক্যাম্পে জায়গা কম। দূর থেকে যারা হজ করতে যাবেন তারা একসঙ্গে আগেভাগেই ক্যাম্পে আসেন। সেজন্য চাপ বাড়ে। আমরা হাজ গমনেচ্ছুদের দুঃখ লাঘবে সচেতন।’

অঞ্চলভিত্তিক মোয়াল্লেম না থাকায় সমস্যা বাড়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আগামীতে ভেবে দেখব। এবার এ বিষয়ে কিছুই করার নেই। তবে ভবিষ্যতে অঞ্চলভিত্তিক মোয়াল্লেম যেন থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এবার ঢাকাতেই সৌদি ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হওয়ায় একটু হলেও ভোগান্তি কম হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরবে যাচ্ছেন।

সারাবাংলা/এসজে/এমও

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন