মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ছাদ দেখানোর নামে সামিয়াকে নেয় হারুন, ধর্ষণের পর রাখে রান্নাঘরে

জুলাই ৭, ২০১৯ | ৩:৩১ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের স্কুল ছাত্রী সাত বছরের শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর নাম করে আট তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় হারুন অর রশিদ। এরপর তাকে নয়তলার খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সামিয়া। সামিয়াকে মৃত ভেবে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে সামিয়ার অচেতন দেহ রান্নাঘরে সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৭ জুলাই) দুপুর ২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই সামিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

সামিয়া হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন অর রশিদকে সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে সামিয়া হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে ডিবি পুলিশ।

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরণের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর ভাবে, এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না। তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। এই ক্ষেত্রেও তাই ঘটিয়েছে ঘাতক হারুন।’

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পূর্বাপর বিবরণ দিতে গিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন সামিয়া মাকে বলে ৮ তলায় যাবে। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা আছে তার সঙ্গে খেলবে। খেলেই চলে আসবে। প্রায় সময়ই ওই বাসায় গিয়ে বাচ্চার সঙ্গে সামিয়া খেলত। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায়, তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। সেখানেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর নাম করে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সামিয়া চিৎকার করলে সামিয়ার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। ধস্তাধস্তিতে সামিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সায়মা নিস্তেজ দেখে গলায় রশি পেঁচিয়ে সামিয়াকে টেনে রান্না ঘরে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে হারুন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গায় পালিয়ে যায়।

আব্দুল বাতেন বলেন, ‘হারুন পারভেজের খালাত ভাই। পারভেজের বাসায় গত দুইমাস থেকে তার রঙয়ের দোকানে কাজ করে আসছিল। গত এক জুলাই থেকে পারভেজ হারুনকে তার দোকানে কাজ করতে না করে দিয়েছিল। কারণ প্রতি সপ্তাহে কাউকে না বলে বাড়িতে চলে যেত। তারপরও খালাতো ভাই হওয়ায় কয়েকদিন ওই বাসায় ছিল। এরকম একটি জঘন্য কাজ করে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়।’

আব্দুল বাতেন বলেন, এরই মধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামিয়াকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে হারুন। হারুনকে আজই আদালতে সোর্পদ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরও রিমান্ডে নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে জানানো হবে।’

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামিয়া হত্যার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে পেতে ওই বাসার সকল নারী পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। পরে হারুনের নাম জানা যায়।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ধর্ষণে অভিযুক্ত হারুনকে মিডিয়া সেন্টারের সামনে দিয়ে আদালতে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তুলতে হেঁটে নিয়ে যাচ্ছিল ডিবি পুলিশের একটি দল। তখন সাধারণ জনতা হারুনকে উদ্দেশ্য তরে গালিগালাজ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ কেউ কেউ তাকে মারতে যায়। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।

গত শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সামিয়ার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবনির্মিত ভবনটির নয়তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবার সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই ভবনের ছয়তলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত সামিয়া।

বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলে নার্সারিতে পড়ত সামিয়া।

সারাবাংলা/ইউজে/একে

আরও পড়ুন

শিশু সামিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
শিশু সামিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা
৬ মাসে ৩৯৯ শিশু ধর্ষণের শিকার, ১৬ জনের মৃত্যু
‘কোন নরপশু আমার মেয়েকে মেরে ফেলল?’
ওয়ারীতে শিশুহত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৬
ওয়ারীর বনগ্রামে খালি ফ্ল্যাট থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
KSRM Bangabandhu Tunnel
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন