বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে বামদের শান্তিপূর্ণ হরতাল

জুলাই ৭, ২০১৯ | ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মিছিল-সমাবেশের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করেছে বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। চট্টগ্রাম নগরীজুড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা আধাবেলা হরতালের সমর্থনে রোববার (৭ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে নগরীর নিউমার্কেট মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নিউমার্কেট মোড়ে কয়েক দফা মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণের পর সেখানে প্রথমে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মিছিল নিয়ে পুরনো রেলস্টেশন চত্বরে যান নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে আবারও নিউমার্কেট আসার পর সেখানে রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের হরতাল পালনের অনুরোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিক রিয়াদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সড়কে দাঁড়িয়ে হরতালের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলাম। এ সময় যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়। তবে আমরা কোনো গাড়িতে হাত দিইনি। পুলিশ এসে আমাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। যেহেতু আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বিশ্বাসী, তাই আমরা কোনো সংঘাতে যাইনি।’

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘নিউমার্কেট মোড়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। হরতাল আহ্বানকারীরা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা তারা ঘটাননি।’

হরতাল চলকালে নিউমার্কেট, পুরাতন রেলস্টেশন, তিনপুলের মাথা, কোতোয়ালী মোড়, লালদিঘী, আন্দরকিল্লা, জামালখান, কাজির দেউড়ি, সিনেমা প্যালেস, শহীদ মিনার এলাকায় লাল পতাকা নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছেন বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সিনেমা প্যালেস এলাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হরতাল।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মৃণাল চৌধুরী, আব্দুল নবী, উত্তম দত্ত, কানাইলাল দাশ, গণসংহতি আন্দোলনের হাসান মারুফ রুমি, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা অপু দাশগুপ্ত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আল কাদেরি জয়, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আতিক রিয়াদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সরকার বড় উন্নয়নের জন্য নাকি বড় বাজেট ঘোষণা করেছে। সরকার এত উন্নয়ন করছে, কিন্তু কৃষক ধানের দাম পায় না। যে উন্নয়নে গরিব-মেহনতি মানুষের ভাগ্য বদলায় না সেটা জনগণের উন্নয়ন নয়, সেটা লুটপাটের উন্নয়ন। গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে সারের দাম বাড়বে। ধানের উৎপাদন খরচ বাড়বে। চালের দাম বাড়বে। সেই চাল বাড়তি টাকায় কিনতে হবে গরীব-মধ্যবিত্তকে। সরকার এই দেশের জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘এ সরকার গণবিরোধী সরকার। বামপন্থীরা হরতাল ডেকেছে, এটা বলে ঘরে বসে থাকলে হবে না। গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে। জনগণ ঘরে বসে থাকলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা বাড়বে।’

এদিকে হরতাল চলাকালে নগরীতে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দূরপাল্লার যানবাহনও স্বাভাবিকভাবেই আসা-যাওয়া করেছে। দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়েছে।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন