সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মন কেমন করা ব্যাংগালুরুর মেঘ-রোদ্দুরে

জুলাই ৯, ২০১৯ | ৩:১২ অপরাহ্ণ

তরিকুর রহমান সজীব

ব্যাংগালোরে এই সময়ের তাপমাত্রা ত্রিশের আশপাশে। তবে ভীষণ কড়া রোদ, সাথে দিন নেই রাত নেই- ভীষণ বাতাসও। আবার মেঘ, সারাদিন টুকরো টুকরো মেঘ মন খারাপ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কখনও কখনও গুটি গুটি পায়ে নেমে পড়ছে দুয়েক মিনিটের জন্য। এই আছে এই নেই, এমনই সে বৃষ্টি- শরীরটাও ভেজে না, মন তো দূরের কথা!

বিজ্ঞাপন

আজকেই তাপমাত্রা চলছে ২৭। অ্যাকুওয়েদার বলছে রিয়েল ফিল ৩১, হিউমিডিটি ৬২ ভাগ, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। বাতাসটা আসছে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে, সে হিসাবে দখিনা বাতাসও বলা যায়। আকাশ 'মোস্টলি ক্লাউডি'। তবে এই 'মোস্টলি ক্লাউডি' আকাশও রোদ ঠেকাতে অপারগ।

এইসব মেঘ-রোদ্দুরের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ মনটা কেমন কেমন লাগে। ২ হাজার/ ২২শ কিলোমিটারের আলাদা একটা ভার তো আছে! ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার বেগের বিরতিহীন পদব্রজেও তো সে প্রায় ডাবল সেঞ্চুরির সমান ভার। তাই বুঝি হঠাৎ মেঘ দেখলে মনে পড়ে যায় 'মেঘ বলেছে যাব যাব...' (রবি ঠাকুরেরটা নয়, কলেজ জীবনের বন্ধু অচিন্ত্যের তৈরি, শত অনুরোধেও যার কোনো রেকর্ড হয়নি; যতটুকু আছে, শুধু স্মৃতিতেই)।

এই স্মৃতি ডেকে নিয়ে আসে শক্তি, বিষ্ণু, পূর্ণেন্দুর কবিতা। পাঠের দীর্ঘবিরতি, তবু গুগলে অক্ষর লিখি। গোটা গোটা হরফে ধরা দেয় 'সরোদ বাজাতে জানলে'। ওর অক্ষরে অক্ষরে লেগে আছে মেঘ, ছুঁয়ে দিলে হাত ভিজে যায়। ওর শব্দে শব্দে বিষাদ, তাকালে চোখ ভিজে যায়। ওর গায়ে লেপ্টে হাহাকার অবিরাম ডেকে যায় চাতকের মতো, যেন বলে- মেঘ, তুই কবে নামবি জল হয়ে?

জল হাসে, জলতার চুড়িপরা হাতে,
নর্তকীর মত নেচে ঘুরে ঘুরে
ঘাগড়ার ছোবলে
সবকিছু কেড়ে নেয়, কেড়ে নিয়ে
ফের ভরে দেয়
বাসি-হয়ে-যাওয়া বুকে পদ্মগন্ধ,
প্রকাণ্ড উদ্যান।
এই অপরূপ ধ্বংস, মরচে-পড়া
ঘরের-দ্বোরে চাঁপা রঙে এই চুনকাম
দরবারি কানাড়া এরই নাম?
সরোদ বাজাতে জানলে বড় ভালো হতো।
পুরুষ কীভাবে বাঁচে সে-ই শুধু জানে।

বিজ্ঞাপন

চামুন্ডি হিলসের ভিউ পয়েন্ট থেকে গোটা মহীশুর শহরটাই দেখা যায়। দেখতে দেখতে মনে হলো, আসলে কী দেখছি? গোটা শহর যেন আর্কিটেক্টের তৈরি মিনিয়েচার মডেল।

কাগজের ওই যে এক খুপড়ির মতো, ওটাই কি ৪ তলা সেই দালান যেটা একটু আগেই ছিল একটা হোটেল কাম রেস্টুরেন্ট? একটু পাশে ওই যে চারকোনা ইঞ্চি আটেক পরিধির আয়তকার বাড়ির মতো, ওপরে গোল গোল টুপি; ওটাই কি মহীশুর প্যালেস, যার ভেতরে একবার ঢুকলে আর নিমেষেই বের হওয়া যায় না? দুই হাজারের রেশিওতে ওখানে মানুষ কই! এইসব সীমাহীন ক্ষুদ্রতার গল্প ঘুরে ফিরে আসে মনে। ভেতরে ভেতরে মানুষ কি এর চেয়ে কম ক্ষুদ্রতা ধারণ করে?

 

ছবি: চামুন্ডি হিলসের ভিউ পয়েন্ট থেকে মহীশুর শহর

লেখক- জয়েন্ট নিউজ এডিটর, সারাবাংলা ডট নেট

সারাবাংলা/টিআর/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন