মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দুধ নিয়ে প্রাণের বিজ্ঞাপনে হাইকোর্টের অসন্তোষ

জুলাই ৯, ২০১৯ | ৪:০৬ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুধ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তিকর তথ্য যেন না ছড়ায় এমন প্রতিবেদন ও বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বিএসটিআইয়ের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ‘আদালত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন’ গণমাধ্যমে বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর দেওয়া এমন বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ সময় আদালত বিএসটিআই-এর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের প্রতিবেদন নিয়ে আমরা কোনো আদেশ দেয়নি, মতামতও প্রকাশ করিনি। অথচ আপনি মিডিয়ার সামনে আদালতের সন্তোষ প্রকাশের কথা বললেন। আর আপনার এই বক্তব্যর পর প্রাণ গ্রুপ গণমাধ্যমে হাইকোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের পণ্যের গুণগান প্রচার করছে। এই দুধ খেয়ে যদি কেউ অসুস্থ হয় তার দায় কে নেবে এমন প্রশ্নও রাখেন আদালত। এসময় আদালতের কোনো আদেশ ছাড়া কোনো বক্তব্য মিডিয়ার সামনে না দিতে তাকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন।

আদালত রিট আবেদনকারী ও বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান। রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ।

এর আগে গতকাল পাস্তরিত দুধ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া প্রতিবেদন যথাযথভাবে দাখিলের নির্দেশ দেন।

পাস্তুরিত দুধ নিয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানির সময় ঢাবির প্রতিবেদন দাখিল করতে বিএসটিআইকে গত ৩০ জুন মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিএসটিআইর আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান একটি খামের মধ্যে করে ঢাবির প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে গেলে আদালত আপত্তি জানান। এসময় আদালত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রিপোর্ট দাখিল করতে বলেন।

পাস্তুরিত দুধ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিস রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধেই ভেজাল ধরা পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ। এই রিট আবেদনে গত বছরের ২১ মে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি করে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। খাদ্য ও স্বাস্থ্য সচিব এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে দেওয়া এই নির্দেশের পর গত ২৫ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বিএসটিআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, চৌদ্দটি কোম্পানির পাস্তরিত দুধে আশঙ্কাজনক বা ক্ষতিকর কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। কিন্তু একইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে যে, পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ‘সলিড নট ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দুধে ‘ফ্যাট ইন মিল্ক’ তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও এগুলোতে আছে তিন দশমিক ছয় থেকে তিন দশমিক ৬১ শতাংশ। এসব দুধে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

সারাবাংলা/এজেডকে/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন