বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘গুটিকয়েক মানুষের সুবিধার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে’

জুলাই ৯, ২০১৯ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীন দলের গুটিকয়েক মানুষের সুবিধার জন্যই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর লেডিস ক্লাবে আয়োজিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন উন্নয়নের ঢোল বাজানো হচ্ছে। গতকালও সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ মূল্য দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই জানি, উন্নয়নের একটা মূল্য দিতে হয়। সেই মূল্য দিতে হয় কার জন্যে? সেই মূল্যটা দিতে হয় সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্যে। আমরা ভালোভাবে দেখছি, উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট থেকে যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের গুটিকয়েক মানুষের সুবিধার জন্যই।’

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে কেন? এলএনজি আমদানি করে তার ভতুর্কি দেওয়ার জন্য। এই এলএনজি কারা আমদানি করছেন? এই সরকারের সঙ্গে যারা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত, যারা মন্ত্রী অথবা উপদেষ্টা অথবা তাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন, তারাই এলএনজি আমদানি করছেন। তাদের জন্যই জনগণকে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।‘

বর্তমানে সরকার নির্বাচিত নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্র ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তারা। জনগণের কাছে এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই গ্যাসের দাম বাড়লেই বা কি? ভ্যাটের পরিমাণ বা ইনকাম ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়লেই বা কী?। এরা জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। তাদের একটি মাত্র লক্ষ্য, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ‘

বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই বিচার বিভাগ এমন একটা পর্যায় গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে সরকারের নির্দেশে রায় দিতে হয়। পাবনাতে ’৯৪ সালে বিরোধী দলের নেত্রীর ওপরে রেলে যে হামলা হয়েছিল, তাতে কোনো হতাহত হয়নি। ২৫ বছর পরে সেই মামলায় ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ২৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই হচ্ছে বিচার বিভাগের অবস্থা।‘

সরকার বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল দেশে পরিণত করতে যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শিক্ষিত যুবকেরা চাকরি পায় না, কর্মসংস্থান নিচের দিকে নামছে। অথচ একই সময় ভারত থেকে লোক এসে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রমাণ হয় বর্তমান সরকার প্রকৃতপক্ষে জনগণের সরকার নয়। এরা পুতুল সরকারে পরিণত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণের ঐক্যে খুব প্রয়োজন। আমাদেরকে জনগণের কাছে চলে যেতে হবে, তাদেরকে সংগঠিত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

এর আগে লেডিস ক্লাবে ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ‘কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে কাউন্সিল উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ড্যাবের সভাপতি হিসেবে হারুন আল রশিদ, মহাসচিব আব্দুস সালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সেলিম, কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম শাকিল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়। গত ২৫ মে কাউন্সিলরদের ভোটে এরা নির্বাচিত হয়েছেন।

ড্যাবের আহবায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ওবায়দুল কবির খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের সদস্য অধ্যাপক রফিকুল কবির লাবু, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, একেএম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাসুম, নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সেলিম, কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন