মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল

জুলাই ১০, ২০১৯ | ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

ইমাদুল হক, কানাডা

কানাডার টরন্টো শহরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল। ‘আন নব উল্লাস হিল্লোল’ শীর্ষক এই উৎসব চলে শনিবার (৬ জুলাই) ও রোববার (৭ জুলাই) ফেয়ারভিউ থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয়। অন্য থিয়েটার টরন্টো, বাংলাদেশ থিয়েটার টরন্টো এবং থিয়েটার ফোকস টরন্টোর আয়োজনে নাট্য উৎসবটি সঞ্চালনা করেন চয়ন দাস ও মেরী রাশেদীন।

দুই দিনব্যাপী এই থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে মোট সাতটি নাটক মঞ্চস্থ হয়।  আহমেদ হোসেনের নির্দেশনায় ‘অন্য থিয়েটার টরন্টো’ লুৎফর রহমান রিটন এর ‘আত্মহননের পূর্বরাত্রি’তে অভিনয় করেন ফারহানা শান্তা। ইমামুল হকের ভাবনা বিন্যাস আর পরিকল্পনায় ‘থিয়েটার ফোকস’ এর নিরীক্ষাধর্মী  নাটক ‘টেলস  অফ বাংলাদেশী  ডায়াস্পোরা’য় শিল্পীরা নিজেদের জীবনগল্প উপস্থাপন করেন। আমেরিকা থেকে আগত ‘ডিসি মেট্রো থিয়েটার’ পরিবেশন করে জাফর রহমানের নির্দেশনায় উইলিয়াম শেক্সপীয়ারের  ‘হ্যামলেট’ এর আলী যাকের রূপান্তরিত ‘দর্পণ’ নাটক।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হয় অপরাজিতা দাসের নির্দেশনায় ‘টরন্টো বেঙ্গলি ড্রামা গ্রুপ’ এর ‘হঠাৎ দেখা’। ইতিহাস, দেশ-সমাজ মঞ্চস্থ করে আকতার হোসেনের রচনা এবং নির্দেশনায় ‘ইচ্ছাপূরণ’ আর বাংলাদেশ থিয়েটার টরন্টো মঞ্চস্থ করে ‘এক যে ছিল দুই হুজুর’। নাটকটি রচনা করেন রবিউল আলম আর নাটকটি নির্দেশনা দেন হাবিবউল্লাহ দুলাল এবং রবিউল আলম। ‘অন্য থিয়েটার টরন্টো’ বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় এর ‘অতঃপর হরেন মন্ডল’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাট্য উৎসব শেষ হয়। নাটকটি  নির্দেশনা দেন বাহারউদ্দিন খেলন এবং প্রয়োগে ছিলেন আহমেদ হোসেন।

উৎসবের দুইদিন নাট্য বিষয়ক দুটি সেমিনার দিয়ে নাট্য পরিবেশনা শুরু হয়।   প্রথম দিনে ‘অভিবাসীর নাট্যচর্চাঃ বাঙালীর রূপ-অরূপের খোঁজ’ বিষয়ে মূল নিবন্ধ পাঠ করেন মিথুন আহমেদ। প্রবন্ধের উপর প্রাণবন্ত আলোচনা করেন কবি আসাদ চৌধুরী এবং হাসান মাহমুদ।

আয়োজকদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘দেওয়া আর নেওয়ার সংস্কৃতির ভেতর দিয়েই আমাদের সংস্কৃতি আর নাটক ঋদ্ধ হবে।  দেশ থেকে অনেক দূরের এমন আয়োজন প্রবাসীদের বাংলা নাট্যচর্চায় আগ্রহী  করবে আর সেই সাথে আশা করি প্রবাসে বাংলা নাটকের জন্যে দর্শক তৈরিতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলা নাট্যচর্চা দেশে বিদেশে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আকতার হোসেন। এতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিডনি থেকে আগত অতিথি বিশিষ্ট নাট্যকর্মী, অভিনেতা জন মার্টিন, টরোন্টোর সংস্কৃতি কর্মী ইমামুল হক ও আহমেদ হোসেন।

আলোচনা পর্বে জন মার্টিন বলেন, ‘প্রবাসে নাট্যচর্চার নানান চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হলো কষ্টসাধ্য সাধনার মধ্য দিয়ে একটি নাটক তৈরির পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা একাধিক মঞ্চায়নের সুযোগ পায় না, একজন নাট্য কর্মী হিসেবে এটি আমাদের খুবই আহত করে।’

অংশগ্রণকারী সব নাট্য দল ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ইমামুল হক বলেন, ‘নানান সীমাবদ্ধতার ভেতরে থেকেও প্রবাস  জীবনে বাংলা সংস্কৃতি ও নাট্য চর্চার জন্যে কিছু নিবেদিত মানুষের জন্যেই প্রবাসী বাঙালিরা এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে একসাথে হতে পারলেন । নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে  দর্শক তৈরির কোনো বিকল্প নেই, আশা করি সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা আগামিতে আমাদের নাটকের জন্যে ভালো দর্শক ও পৃষ্ঠপোষক  তৈরী করতে পারবো।’

সারাবাংলা/ওএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন