মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ কি এল নিনোর কারণে?

জুলাই ১০, ২০১৯ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনেক আবহাওয়াবিদরা ২০১৯ সালকে এল নিনো বছর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, দেরিতে বৃষ্টিপাত অথবা হঠাৎ আকস্মিক বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি কিংবা বেশি বেশি ঝড় হওয়া এল নিনোর প্রভাব।

এই শতকে বিভিন্ন মাত্রার অন্তত ৭টি এল নিনো বছর প্রত্যক্ষ করেছে পৃথিবী। এল নিনোর ফলে এবার ২০১৮-২০১৯ সালে কুয়েতে সর্বোচ্চ ৬৩ ডিগ্রি সেলেসিয়াস তাপমাত্রা ও ফ্রান্সে সর্বোচ্চ ৪৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাসব্যাপী ইউরোপ জুড়ে প্রচণ্ড তাপদাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায়। এমনকি উচ্চ তাপমাত্রার কারণে অনেক অঞ্চলে স্কুলের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরাও জানিয়েছেন, এ বছর বর্ষাকাল প্রায় ফুরিয়ে গেলেও নিয়মিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। বরং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কৃষি কাজ ব্যাহত হয়েছে। ফলনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি।

তবে আবহাওয়ার এরকম অস্বাভাবিক আচরণ বিশেষজ্ঞরা যে একেবারেই আঁচ করতে পারেননি তা নয়। গত বছর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেই বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছিল ২০১৯ সালে এল নিনো ফের হানা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর আগে, ২০১৭-১৮ ছিল লা নিনার বছর।

বিজ্ঞাপন

এল নিনো হচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় তাপমাত্রার একটি পর্যাবৃত্ত পরিবর্তন। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (০.৫ থেকে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বৃদ্ধি পায়। এটি প্রায় ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অপরদিকে এল নিনোর সম্পূর্ণ বিপরীত লা নিনা। লা নিনার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (-০.৫ থেকে -৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হ্রাস ঘটে। লা নিনা স্থায়ী হয় ২ থেকে ৯ মাস।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বিগত ৫০ বছরে ১৭ বার এল নিনো এবং ১২ বার লা নিনা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এ ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলে ধারণা করছেন তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার দক্ষিণ ও উত্তরাংশের অপেক্ষাকৃত শুষ্ক জলবায়ুর অঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং একইসঙ্গে ইউরোপ, এশিয়ায় ব্যাপক খরাকে এল নিনোর হিসাব নিকাশের বাইরে রাখা যাচ্ছে না।

সারাবাংলা/একেএম/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন