শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পাড়ায়-পাড়ায় ‘হ্যালো ওসি’

জুলাই ১১, ২০১৯ | ৬:২৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ‘হ্যালো ওসি’ নামে ভ্রাম্যমাণ বুথ নিয়ে পাড়া-মহল্লায় গিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার কর্মসূচি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। মানুষের মধ্য থেকে ‘পুলিশ ভীতি’ দূর করতে এবং অভিযোগ শুনেই তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে নগরীর কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি নিয়ে হাজির হচ্ছেন পাড়া-মহল্লায়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১০ জুলাই) নগরীর মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত চৌদ্দ জামতলা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বুথে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। শুরুর দিনেই তিনজন মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী সুপথে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ওসি’র কাছে। একইভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্ধকার পথ ছাড়তে ওসি’র সহযোগিতা চেয়ে বৃহস্পতিবার থানায় হাজির হয়েছিলেন এক মাদক বিক্রেতা দম্পতি।

সাধারণ মানুষের এই সাড়া উদ্বুদ্ধ করেছে ওসি মহসীনকেও। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘হ্যালো ওসি- নামে এই কার্যক্রম পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে থানায় চালু করেছিলাম। এখন মোবাইল বুথ নিয়ে আমি পাড়ায়-পাড়ায় যাচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে একটি পাড়ায় যাব। স্থানীয় বিট অফিসাররা সেই কর্মসূচি সমন্বয় করবেন। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত স্থানীয় সমস্যা, মাদক ব্যবসা, জুয়াখেলা, ইভ টিজিংসহ যে কোনো সমস্যার কথা এলাকার লোকজন মন খুলে বলতে পারবেন। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব। কাউকে আটক-গ্রেফতার করতে হলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

ওসি মহসীন জানান, বুধবার জামতলা এলাকায় বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সকালে থানায় আসে মাদক বিক্রেতা জুনু বেগম ও তার স্বামী আব্দুর রহমান। তারা মাদক বিক্রির পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা জানান এবং ওসি’র সহযোগিতা চান।

‘স্বামী-স্ত্রী দু’জনই বলেছেন- ১২ বছর ধরে তারা মাদক বিক্রি করেন। এখন তারা সেই অন্ধকার পথ ছেড়ে আসতে চান। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় কয়েকটি মামলা আছে। তবে তারা জামিনে আছেন। আমি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি।’ বলেন ওসি মহসীন

বুধবার চৌদ্দ জামতলা এলাকায় বৈঠকের সময়ও একইভাবে আফসার উদ্দিন শাকিল নামে এক মাদক বিক্রেতা ওসি’র কাছে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তিনিও ওসি’র কাছে সহযোগিতা চান।

ওসি মহসীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘শাকিল জামিনে আছে। সে যদি ভালো হয়ে যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছি।’

ফাতেমা বেগম নামে এক নারী মাদকসেবী ছেলে রমজান মিয়াকে নিয়ে ওসি’র হাতে তুলে দেন। ফাতেমার দাবি- ওসি যেন তাকে ভালো করে দেন। ওসি রমজানকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন ফাতেমাকে। মাদকের মামলায় পলাতক থাকা জাহেদুল আলম জনি নামে এক যুবকের মা ও বোন ওসিকে একইভাবে অনুরোধ করেন জনিকে সহযোগিতার জন্য। তাদের দাবি- ওসি সহযোগিতা করলে জনি মাদকের পথ ছেড়ে দেবে। ওসি তাদেরও আশ্বাস দেন।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এসে আমাকে মাদক বিক্রি ও সেবন নিয়ে অনেক তথ্যও দিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই তথ্যগুলো সহায়ক হবে। এলাকার লোকজনকে সচেতন হবার জন্য বলেছি। থানায় না গিয়েও যে পুলিশকে তথ্য দেওয়া যায় কিংবা অভিযোগ করা যায়, সেই বিষয়ে তাদের সচেতন করেছি।’

জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা (পুলিশ) মানুষের কাছে যেতে চাই। অনেকে নানা কারণে থানায় আসতে চায় না। কোতোয়ালী থানার ওসি মানুষের কাছে যাবার যে প্রোগ্রাম শুরু করেছেন, আমরা চাই নগরীর ১৬ থানার সব ওসি যেন একইভাবে মানুষের কাছে যান। এতে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে গ্যাপ আছে, সেটা কমে যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনও সহজ হবে।’

সারাবাংলা/আরডি/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন