মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

কাউন্সিলর হিরণের বিরুদ্ধে সরব এমপি আফছারুল

জুলাই ১১, ২০১৯ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘসময় ধরে অনুসারী হিসেবে পাশে রাখার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ‘প্রভাবশালী’ এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সংসদ সদস্য আফছারুল আমিন। এমপি’র অভিযোগ- কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরণের দাপটে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্বাভাবিকভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড করতে পারছেন না তারা। তৃণমূলের নেতাদের বরাত দিয়ে কাউন্সিলর হিরণের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তুলেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর নগর কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক ওই সভায় যোগ দিয়ে আফছারুল আমিন কাউন্সিলর হিরুণের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-হালিশহর-ডবলমুরিং) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন আফছারুল আমিন। ২০১৪ সালে এবং ২০১৯ সালেও তিনি একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মোহাম্মদ হোসেন হিরণ সংসদ সদস্য আফছারুলের সংসদীয় আসনের অধীন চট্টগ্রাম নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি খুলশী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করছেন। খুলশীজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী তিনবারের কাউন্সিলর হিরণ প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। আফছারুল আমিন মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর তার সঙ্গে ভেড়েন তিনি। ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনের পর আফছারুলের সঙ্গে হিরণের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে হিরণের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী ওয়ার্ডে দলীয় সভা-সমাবেশসহ যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাউন্সিলর হিরণের অনভিপ্রেত বাধার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বুধবারের সভায় আফছারুল প্রথমে এই চিঠির প্রসঙ্গ তোলেন। সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, হিরণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখার একপর্যায়ে তাকে বহিষ্কারের দাবিও তোলেন সাংসদ আফছারুল। তবে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এসময় অভিযোগের বিষয়ে হিরণের বক্তব্য শোনার প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সভায় উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের সারাবাংলাকে বলেন, ‘এমপি (আফছারুল আমিন) সাহেব প্রথমে কাউন্সিলর হিরণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে বক্তব্য রাখেন। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেছেন তিনি। তখন আমাদের সাধারণ সম্পাদক পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দেওয়া চিঠি সভায় পাঠ করে শোনান। কিন্তু সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১৭ জুলাই সম্পাদকমণ্ডলীর মিটিং আছে। ১৯ জুলাই এমপি সাহেবের বাসায় সভাপতিমণ্ডলীর মিটিং আছে। সেখানে আরও আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে।’

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আফছারুল আমিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার নিজস্ব কোনো অভিযোগ ছিল না। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ দফতর সম্পাদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’

কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরণ সারাবাংলাকে বলেন, ‘এমপি সাহেবকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। উনাকে আমি স্যার হিসেবে সম্বোধন করি। একাধিক সভায় উনি আমার প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। হঠাৎ করে তিনি কেন আমার বিরুদ্ধে চলে গেলেন, সেটা এইমুহূর্তে আমি বলতে চাই না। তবে এরপরও আমি উনাকে শ্রদ্ধা করি। উনি আমার নেতা।’

তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধার অভিযোগের বিষয়ে হিরণ বলেন, ‘আমার এলাকা খুলশী মিনি পাকিস্তান ছিল। সেখানে আমি তিনবার কাউন্সিলর হয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি। আমরা যদি বাধাই দিতাম, তাহলে খুলশী থেকে আফছারুল আমিন স্যার তিনবার সংসদ সদস্য কিভাবে নির্বাচিত হলেন?’

এদিকে বুধবার সভায় সম্প্রতি নগরীর লালখান বাজারে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘাতের প্রসঙ্গও উঠে আসে। নগর কমিটির দফতর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের সারাবাংলাকে জানান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। সংঘাতে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে জানিয়ে শফিক আদনান জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। তবে সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এই সংঘাত রাজনৈতিক নয় বলে দাবি করেন। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে এই সংঘাত হয়েছে বলে মেয়র দাবি করেন।

জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন সারাবাংলাকে বলেন, ‘লালখান বাজারে সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নগর আওয়ামী লীগ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। দলের নাম ব্যবহার করে সংঘাতের কারণে লালখান বাজারের মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমরা সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

সম্প্রতি নগরীর লালখান বাজারে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত মো. বেলালের অনুসারীদের মধ্যে দু’দফা রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন