বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সম্পদ বিক্রির মুচলেকায় ক্ষমতায় আসার রাজনীতি করি না’

জুলাই ১১, ২০১৯ | ১১:১৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করবার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসার রাজনীতি করি না।’ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসময় আমেরিকার নেতাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

২০০০-২০০১ সালের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রচণ্ড চাপ আসলো, আমাদের গ্যাস রপ্তানি করতে হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তিনি ঢাকায় এসে আমার কাছে প্রস্তাব দিলেন। এরপর আমাকে দাওয়াত দিয়ে আমেরিকায় নিয়ে গেলেন। সেখানেও প্রস্তাব দেয়া হল। গ্যাস আমরা বিক্রি করব ভারতের কাছে আর আমেরিকান কোম্পানি আমাদের এখানে গ্যাস উত্তোলন করবে।’

‘আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমার কত গ্যাস আছে, সেটা আমাকে আগে জানতে হবে। ওটা তো আমার দেশের সম্পদ। দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য অন্তত ৫০বছরের রিজার্ভ রেখে যদি অতিরিক্ত গ্যাস থাকে, আমি বিক্রি করতে রাজি কিন্তু তার আগে না।’

বিজ্ঞাপন

‘এরপর লতিফুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেন। তখন আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার বাংলাদেশে এলেন এই ব্যাপারে কথা বলতে। তিনি যমুনায় ছিলেন। সেখানে আমার দল থেকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক (জিল্লুর রহমান) আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মান্নান ভুঁইয়া সাহেব, আমাদের চারজনকে ডাকা হল।’

সেখানেও গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হলে তা নাকচ করে দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতি করি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করবার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে, এই রাজনীতি করি না। সে কথাটা আমি সেখানেও স্পষ্টভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে বলে এসেছিলাম। এরপর আমি আর জিল্লুর রহমান চলে আসি এবং খালেদা জিয়া থেকে যায় এবং মুচলেকাও দিয়ে দেন। যার ফলে ২০০১ সালে ভোট পেয়ে আমরা সরকার গঠন করতে পারি নাই। এটা হল বাস্তবতা। সেটা নিয়ে আমার কোন আপসোস নাই।’

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা অগ্রগতির চাকা এগিয়ে নিতে জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমাদের জ্বালানি না থাকে তার মূল্য কত বেশি হবে তা আমাদের সকলকে ভাবতে হবে। আমাদের জীবনমান কতটুকু উন্নতি হবে! আর আমরা জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করছি। কত খরচ হচ্ছে? আমাকে কত মূল্য দিতে হচ্ছে? যদি কোন এনার্জি থাকে তাহলে আমাদের জীবন মানের কতটুকু মূল্য দিতে হবে? আর যদি এনার্জি দিতে পারি তাহলে আমাদের জীবনমান কতটা উন্নত হবে, সেই চিন্তাটাও আমাদের করতে হবে।’

‘কাজেই আমাদের খরচ যেটা সেটা তো বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা গ্যাস দিতে যদি না পারি তাহলে কি হবে? আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হবে, রফতানি ব্যাহত হবে এবং কর্মসংস্থানও বন্ধ হয়ে যাবে। সারাদেশে হাহাকার শুরু হয়ে যাবে। আমি জানি না, যারা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করছে, তারা কি চান? আমরা তো ভর্তুকি দিয়েই নিয়ে আসছি। আমার রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। তারপরও জনগণের কাছ থেকে নিচ্ছি না।’

উৎপাদন খরচসহ পুরোটাই তাহলে জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত কিন্তু তা করা হচ্ছে না তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি, এর মাধ্যমে আমাদের যে উন্নয়ন বা উৎপাদন হচ্ছে, সেটা দিয়েই চেষ্টা করে যাব মানুষের জীবন যাতে সহজ হয়। এলএনজি সরবরাহের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকবে।’ এই বিশ্বাস থেকে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভারত এবং বাংলাদেশের গ্যাসের মূল্য তালিকার তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত নাকি গ্যাসের দাম কমিয়ে দিয়েছে। যারা বলেন, ভারত দাম কমিয়েছে, কথাটা কিন্তু সঠিক নয়। এলএনজি আমদানির ফলে গ্যাসের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের এই দাম কিন্তু অনেক কম। আমরা বিরাট অংকের অর্থ ভর্তুকি দিয়েই কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি।’

দেশবাসীকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। পাশাপাশি অপচয় রোধে শিল্প কলকারখানা ব্যতীত গৃহস্থালিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রিপেইডমিটার দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/এনআর/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন