মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ফেভারিট স্বাগতিক আর ‘আন্ডারডগ’র ফাইনাল

জুলাই ১১, ২০১৯ | ১১:৪১ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমি ফাইনালের লাইনআপ ঠিক হওয়ার পর অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, প্রথম সেমিতে ফেভারিট ভারতকে হারানো সম্ভব হবে না নিউজিল্যান্ডের। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশাই ছিল সবার। দুই ম্যাচের কোনোটিই হাঁটেনি প্রত্যাশার পথে।

বাঁকে বাঁকে রঙ বদলানো প্রথম সেমিতে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে ক্রিকেট মক্কা লর্ডসে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের টিকিট কেটেছে গোটা টুর্নামেন্টে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে খেলে আসা নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনালে তাদের সঙ্গী হয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে ফেভারিট স্বাগতিক ইংল্যান্ড আর ‘আন্ডারডগ’ নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল থেকেই ২৩ বছর পর ক্রিকেট বিশ্ব পেতে যাচ্ছে নতুন এক চ্যাম্পিয়ন।

কোহলি-রোহিতের টপ অর্ডারের সঙ্গে ফিনিশার ধোনি আর গত কয়েকবছরে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠা বুমরাহ-চাহালের বোলিং ইউনিট নিয়ে ভারত ছিল এবারের অন্যতম ফেভারিট। গ্রুপ পর্বে ঠিক তেমনই দাপট দেখাচ্ছিল দুইবারের এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাতে ১৩০ কোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশা ছিল, কোহলি অ্যান্ড কোং তাদের তৃতীয় শিরোপাটি উপহার দিতে পারে এবারই।

একটু বিপরীত চিত্র ছিল নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে। গেল আসরের রানার-আপ হলেও এবারে খানিকটা আন্ডারডগই মনে করা হচ্ছিল দলটিকে। ব্যাটিংয়ে উইলিয়ামসন-টেইলর হাল ধরে রাখলেও টপ আর লোয়ার অর্ডার অনেকটাই ছিল ছন্নছাড়া। বোলিংয়ে অবশ্য প্রতি ম্যাচেই ত্রাস ছড়িয়েছেন বোল্ট-হেনরি-ফার্গুসনরা। তা সত্ত্বেও সেমিতে নিউজিল্যান্ডকে ভারতের জন্য সহজ প্রতিপক্ষই মনে করছিলেন ক্রিকেট বোদ্ধারাও। খেলার মাঠে উল্টে যায় সে হিসাব।

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টির বাধায় দুই দিনে গড়ানো সেমিতে ফের ব্যর্থ কিউইদের টপ আর লোয়ার অর্ডার। বহু যুদ্ধে পরীক্ষিত সেই উইলিয়ামসন আর টেইলরের ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত ২৩৯ রানের পুঁজি পায় দলটি। যদিও ভারতের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপের সামনে সেটা ছোটই মনে হচ্ছিল। তবে ক্রিকেট বিধাতার মনে ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা।

ভারত ব্যাটিংয়ে নামতে না নামতেই বোল্ট-হেনরি রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন। দলীয় মাত্র ৫ রানে তখন সাজঘরে রোহিত-কোহলি-রাহুল। ২৪ রানের মাথায় বিদায় নেন দীনেশ কার্তিকও। এরপর রিশব পান্ত আর হার্দিক পান্ডিয়াও টিকতে পারেননি। তবে ম্যাচের রঙ বদলে দিচ্ছিল ধোনি-জাদেজা জুটি৷ উইলিয়ামসনের ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব বৃথা যেতে দেননি বোল্ট, টানা লাইনে বল রেখে চাপ বাড়িয়ে উইলিয়ামসনেরই ক্যাচ বানিয়ে তুলে নেন জাদেজাকে। অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা ধোনিকে পিন-পয়েন্ট প্রিসিশনে ডিরেক্ট হিটে রান-আউটের খাড়ায় ফেলেন টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ফ্লপ গাপটিল। তাতেই নিশ্চিত হয় নিউজিল্যান্ডের টানা দ্বিতীয় ফাইনাল।

এদিকে, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা ইংল্যান্ড এবারের বিশ্ব আসরের স্বাগতিক এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ছিল হট ফেভারিট। একদিকে রয়-বেয়ারস্টো-মরগান-বাটলারের মারমার কাটকাট ব্যাটিং, অন্যদিকে আর্চার-ওকস-উডের পেস তোপ; এর সঙ্গে সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্টোকস ইংল্যান্ডের ফেভারিট তকমার সঙ্গে ছিল মানানসই। তবে গ্রুপ পর্বে একাধিক ম্যাচে হোঁচট খাওয়ায় দলটির পক্ষে বাজি ধরেও স্বস্তিতে ছিলেন না সমর্থকরা। কিন্তু সেমিফাইনালে উঠে অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তাই দেয়নি তারা।

স্মিথ-ওয়ার্নার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে আসার পর ফিঞ্চের ঠান্ডা মাথার অধিনায়কত্ব আর স্টার্ক-কামিন্সদের বোলিং তোপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়াও খেলে যাচ্ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের মতোই৷ কিন্তু সেমিফাইনালে শুরুতেই আর্চার-ওকসের বোলিং তোপে উড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। তারপর স্মিথ একা টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি আর শেষের দিকে স্টার্ক ছাড়া কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে মাত্র ২২৩ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। এই রান ডিফেন্ড করতে গেলে শুরুতে যে ধাক্কা দরকার ছিল, তা দিতে পারেননি অজি বোলাররা।

উলটো রয়-বেয়ারস্টো উড়িয়ে দিয়েছেন স্টার্ক-কামিন্সদের। পরে রুট-মরগানও হেঁটেছেন একই পথে। ফলে প্রায় ১৮ ওভার হাতে রেখেই ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। তাতেই নিশ্চিত হয়, ষষ্ঠ কোনো দেশ এবার পাচ্ছে ক্রিকেট শিরোপার স্বাদ।

দ্বাদশ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ফাইনালটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি। ১৪ জুলাই লন্ডনের লর্ডসে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ফাইনাল।

বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনলাইনে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি বা চার্জ ছাড়াই দেখতে পারবেন র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইট www.rabbitholebd.com-এ। এছাড়া র‍্যাবিটহোলের অ্যাপেও দেখা যাবে প্রতিটি ম্যাচ। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/UNCWS2 (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে। তাছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/vJjyyL (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে।

সারাবাংলা/টিআর/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন