রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বাতিল বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরায় চালুর অনুমতি দিচ্ছে সরকার

জুলাই ১২, ২০১৯ | ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাতিল করা বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরায় চালুর অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে শুধু প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে। ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানির (ডিএনপিইউসি) গাবতলী ১০৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার তেলভিত্তিক কেন্দ্রটি এখন কেরানীগঞ্জে হবে। নতুন করে অনুমোদন পাওয়ার পর ১২ মাসের মধ্যে কেন্দ্রটিকে উৎপাদনে আনতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান। তবে প্রকাশ্যে কোনো কর্মকর্তা এই কেন্দ্রটি নিয়ে কথা বলতে চাননি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর গাবতলী ও বসিলাতে ১০৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার পৃথক দুটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর সঙ্গে চুক্তি করে ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি (ডিএনপিইউসি)। চুক্তির পর এক বছরের মধ্যে গাবতলী ১০৮ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৭ বছরের বেশি সময় পার হলেও ভূমি উন্নয়ন ছাড়া কার্যত কেন্দ্রটির কোনো কাজ হয়নি। যে কারণে চলতি বছরের মে মাসে পিডিবি এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) বাতিল করার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির পরিসমাপ্তি টানে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য মাথায় রেখে গাবতলী ১০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পন্সর কোম্পানি ডিএনপিইউসিকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার এই কেন্দ্রটি গাবতলীর বদলে কেরানীগঞ্জে নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে কেন্দ্রটিকে উৎপাদনে আনার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হবে। এছাড়া, পুনরায় অনুমতি দেওয়ার পর কেন্দ্রটি নির্মাণের সকল কাজ পিডিবি থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

জানা গেছে, ডিএনপিইউসি গাবতলী কেন্দ্রটি করতে ২০১১ সালে চুক্তি করার পরে গত ৭ বছরের বেশি সময় পার হলেও উৎপাদনে আসেনি। এত সময় পরেও কেন কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসতে পারেনি, তা তদন্ত করতে চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফায়জুল আমিন। এই কমিটি গাবতলী কেন্দ্র ছাড়াও আরও ৫টি কেন্দ্র নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদনে না আসার কারণ তদন্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

কমিটি গাবতলী কেন্দ্র নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, স্পন্সর কোম্পানি এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রটির জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারেনি। এমনকি এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে ইপিসি কন্ট্রাক্টর নিয়োগ দিতে পারেনি। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১ এপ্রিল পিডিবির ১৭৯৮তম  বোর্ডসভায় সর্বসম্মতিক্রমে গাবতলী কেন্দ্রের বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল ও প্রকল্পের পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সারাবাংলা/এইচএ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন