রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অনিয়ন্ত্রিত বায়ুমণ্ডলীয় গতির কবলে এয়ার কানাডা, আহত ৩৫

জুলাই ১২, ২০১৯ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাঝ আকাশে অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বায়ুমণ্ডলীয় গতির (টারবুলেন্স) কবলে পড়ে এয়ার কানাডা এয়ারলাইন্সের ৩৫ জন আরোহী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বোয়িং ৭০০-২০০ জেট বিমানটি কানাডার ভ্যানকোভার থেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যাওয়ার সময় সমুদ্র থেকে ৩৬ হাজার ফুট উপরে এই বিপত্তির শিকার হয়। এসময় বিমানটিতে ২৮৪ জন আরোহী ও ১৫ জন ক্রু ছিলেন বলে জানায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘বৃহস্পতিবার এয়ার কানাডা (এসি) ফ্লাইট-৩৩ বায়ুমণ্ডলের অস্বাভাবিক চাপের কবলে পড়ে যায়। পরে বিমানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হুনোলুলুর ড্যানিয়েল কে ইনওউই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন পাইলট।’

যাত্রীদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘হঠাৎ করে ফ্লাইটটি গতি বিপত্তিতে পড়ে। বিমানটি এসময় পাইলটের প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। এ সময় বিমানে অনিয়ন্ত্রিত কম্পনের সৃষ্টি হলে আরোহীদের কেউ কেউ ছিটকে বিমানের ছাদের সাথে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হয়’।

বিজ্ঞাপন

ওয়াশিংটনের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র ইয়ান গ্রেগর জানিয়েছেন, ‘বিমানটি যখন অস্বাভাবিক বা রুক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় গতির মুখে পড়ে, তখন এটি ৩৬ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ছিলো। এছাড়া বিমানটি হুনোলুলু থেকে প্রায় ৬০০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিলো।’

(টারবুলেন্স) বা অনিয়ন্ত্রিত বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণসমূহ:

  • বাতাসের গতি সাধারণ চোখে দেখা যায় না
  • আবহাওয়ামণ্ডলের চাপ
  • জেট স্ট্রিম
  • পাহাড়কে ঘিরে থাকা বাতাস
  • ঠাণ্ডা কিংবা উষ্ণ আবহাওয়া
  • বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়

অন-ফ্লাইট ইনজুরির অন্যতম কারণই হচ্ছে এই এয়ার টারবুলেন্স। প্রতি বছর শত শত মানুষ এয়ার টারবুলেন্সের কারণে আহত হন। সাধারণত ৩০ হাজার ফুট কিংবা তার বেশি উচ্চতায় এয়ার টারবুলেন্সে পড়ে কোনো  উড়োজাহাজ।

ক্লিয়ার এয়ার টারবুলেন্স (ক্যাট) কী?

ক্যাট বা ক্লিয়ার এয়ার টারবুলেন্স। সম্পূর্ণ পরিস্কার নীল শান্ত আকাশে উড়োজাহাজ যখন টারবুলেন্সে পড়ে এভিয়েশনের ভাষায় তাকে ক্যাট বলে চিহ্নিত করা হয়। এক্ষেত্রে চোখে দেখে কিছুই বুঝতে পারেন না বৈমানিকরা।

সাধারণ রাডারে তা ধরাও পড়ে না। বড় এলাকা জুড়ে বাতাস যখন ভিন্ন ভিন্ন গতিপথে চলতে থাকে আর যখন তখন গতিপথ বদলায় তখন এ ধরনের টারবুলেন্স সৃষ্টি হয়।

এসব ক্ষেত্রে কোনো একটি উড়োজাহাজ যখন ওই টারবুলেন্সে পড়ে তার বৈমানিকের দেওয়া তথ্য পেয়ে অন্যগুলো সতর্ক হতে পারে, এছাড়া সতর্কতার আর কোনো পথ নেই।

সারাবাংলা/ওএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন