বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

জনবিস্ফোরণের মুখে পৃথিবী, ছাড়াচ্ছে ৮০০ কোটি

জুলাই ১২, ২০১৯ | ৬:০৫ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা: বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিস্ফোরণের সঙ্গে তুলনা চলে না অন্য কোনো কিছুর। পৃথিবীর জনসংখ্যা এখন ৮০০ কোটির কাছাকাছি। সঠিক হিসেব বললে ৭’শ ৭০ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ যোগ হবে আরও ২০০ কোটি। অর্থাৎ ১ হাজার কোটির কাছাকাছি।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে গত ১১ জুলাই প্রতিবেদন ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন একথা জানায়। তাদের মতে, এত দ্রুত জনসংখ্যার বৃদ্ধি মোটেও ভালো বিষয় নয়। এছাড়া, জাতিসংঘও জনসংখ্যার বৃদ্ধির তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে উদ্বেগ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাজার বছরের পরিক্রমায় এইতো ১৯৮৭ সালে জনসংখ্যা ৫০০ কোটির নাগাল পায়। এরপর মাত্র ৩২ বছরে যোগ হয়েছে আরও ২’শ ৭০ কোটি! তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ঘটনা পৃথিবীর সব অঞ্চলে সমানুপাতিক নয়। আবার কিছু কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সত্যিকার অর্থে কমেছে!

বিজ্ঞাপন

জনসংখ্যা কমছে যেসব অঞ্চলে

২০১০ সালের পর হতে অন্তত ২৭টি দেশ বা অঞ্চলের জনসংখ্যা শতকরা ১ ভাগ কমেছে। এসব দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চীন, জাপান। এছাড়া, সারাবিশ্বে একইসঙ্গে কমেছে নারীদের সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা। ১৯৯০ সালে যেখানে প্রতি একজন নারী ৩.২ টি শিশুর জন্ম দিতে পারতেন, ২০১৯ সালে তা নেমে এসেছে ২.৫ এ। এই হার আরও কমবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

তবে বাড়ছে কোথায়?

যেসব দেশ বা অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে যথার্থই জনবিস্ফোরণ বলা চলে। যেমন ধরুন, আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের কথা। সেখানে বর্তমান জনসংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যেই দ্বিগুণ হবে।

এছাড়া, ২০১৮ সালের এক জরিপে বলা হয়, ২০৫o সাল নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের অর্ধেক নির্ভর করছে ৯টি দেশের ওপর। দেশগুলো হচ্ছে, ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ডি আর কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র।

গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলেও গরিব দেশগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুখবর হলো মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের গড় আয়ু ৭২.৬ বছর হলেও ২০৫০ সালে তা গিয়ে দাঁড়াবে ৭৭.১ বছরে। এমনই আশা বিশেষজ্ঞদের। তবে এশিয়ার ও আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি থাকায় ও এইডস এর মতো মহামারিতে তারা ভোগায়, সেসব দেশের মানুষের গড় আয়ু অন্যান্য দেশের চেয়ে ৭.৪ বছর কম! এছাড়া, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রাজনৈতিক সহিংসতা গড় আয়ু কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

বয়স্করাই পৃথিবীতে এখন বেশি!

আমরা সবাই বৃদ্ধ হচ্ছি আর বয়স্করাই রাজত্ব করছে পৃথিবীতে, তারাই এখন সংখ্যায় বেশি। জরিপে দেখা যায়, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যা এখন ৫ বছরের শিশুদের চাইতে বেশি। পৃথিবীর ইতিহাসে বর্তমানেই এটা প্রথম ঘটলো। চিকিৎসাসেবা উন্নত হওয়া ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এটির কারণ।

তবে বয়স্ক জনগোষ্ঠী বা ‘কর্মে অক্ষমে’র সংখ্যা অতিরিক্ত হলে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য মঙ্গলকর নয়। ২০৫০ সাল নাগাদ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় প্রতি ৪ জনের একজন হবেন ৬৫ বছরের প্রবীণ।

সারাবাংলা/ এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন