বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

চুরি করেছে কর্মচারী, মুনাফা বন্ধ আমানতকারীর

জুলাই ১২, ২০১৯ | ৭:০১ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

নওগাঁ: জেলার জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরে গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য অফিস সহায়ক সাদ্দাম হোসেনকে দায়ী করলেও গ্রাহকদের মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিভাগীয় অডিটে এই দুর্নীতি ধরা পরার পর ঘটনা অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা গেছে, গত জুন মাসে অডিট করতে গিয়ে আমানত আত্মসাতের ঘটনা ধরা পরে। এরপর বেশ কিছু সঞ্চয়ী গ্রাহকের মুনাফা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রাহকের জমাকৃত টাকার হদিস মিলছে না। ঘটনা জানাজানির পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীরা ব্যাংকে জমা দেওয়া টাকার রসিদ নিয়ে প্রতিদিনই যাচ্ছেন সঞ্চয় অধিদফতরের অফিসে। কিন্তু এখনও কোনো সমাধান মেলেনি।

আমানতকারীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে সঞ্চয় অধিদফতর থেকে তারা আমানতের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। এরপর থেকে তারা সঞ্চয়ী হিসেবের বিপরীতে লভাংশ বা মুনাফা পেতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎই কর্মকর্তারা মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দেন। অনিয়ম ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে সেটি সঞ্চয় অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ব্যাপার। গ্রাহকদের কোন সম্পর্ক নেই। তাই সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে সঞ্চয়ের মুনাফা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নওগাঁ সঞ্চয় অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত সঞ্চয় কর্মকর্তা নাসির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অডিটে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পরার পর ১৫ জুন সাদ্দামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, নওগাঁ সঞ্চয় অধিদফতর অফিসে ২০১৪ সাল থেকে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিল সাদ্দাম হোসেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে হঠাৎ করে অফিসে আসা বন্ধ করে দেয় সে। এরপর ৭ মাস অফিসে আসেনি। দায়িত্ব পালনকালে সাদ্দাম বেশ কিছু আমানতের হিসাবের রেকর্ড না রেখে গ্রাহককে ভুয়া সিল-স্বাক্ষরে রসিদ দিয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন পন্থায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে সাদ্দাম।

অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন গাইবান্ধা জেলা সদরের পশ্চিম কোমরনই গ্রামের বক্তার আলীর ছেলে। গত ২৫ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অনুসন্ধানী দল তাকে গ্রেফতার করে। পরে সাদ্দামকে নওগাঁ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে দুদকের টিম নওগাঁয় অবস্থান করে এ মামলার তদন্ত করছে।

তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আরও তথ্য উদঘাটনের জন্য অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে নিলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।’ এ ঘটনার সঙ্গে সাদ্দাম ছাড়াও সঞ্চয় অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা জড়িত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে বলেও জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন