রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জুলাই ১৭, ২০১৯ | ২:০২ পূর্বাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: বগুড়ায় বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলে ওষুধ, মোমবাতি, কেরোসিন, গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডাকাত ও বিষাক্ত সাপের আতঙ্কেও ভুগছে মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৯৮টি গ্রামের ৬৬ হাজার ৮শ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানিতে তিনটি উপজেলার ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে।

তাছাড়া পাট, আউশ ধান, সবজি, মরিচ, বীজতলা ও আখ সহ আট হাজার ৬০৩ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এক হাজার ৯শ ল্যাট্রিন ও ২ হাজার ৪৫৭টি টিউবওয়েল। এছাড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ২২২টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। পুকুর ও মাছের খামার ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে মাছ চাষীরা।

বিজ্ঞাপন

ধলিরকান্দি গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল মন্ডল জানান, গত ৮/১০ বছর যাবৎ এই উপজেলার মানুষ বন্যার সময় চরম দুর্ভোগে পড়ে। এখানে একটি বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করা হলে বয়রাকান্দি এবং ধলিরকান্দি গ্রামের মানুষ বন্যার পানির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যেই বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়া ১৪টি টিউবয়েল মেরামত করা হয়েছে। বন্যা কবলিতদের মাঝে এক হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ৫শ মেট্রিকটন চাল ও আট লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আরও ৫শ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

সারাবাংলা/ওএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন