রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে বাঁধের ১৬টি কপাট

জুলাই ১৭, ২০১৯ | ৩:০২ পূর্বাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ায় ও পাহাড়ি ঢলের পানি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই বাঁধের সবগুলো জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাত আটটার দিকে কাপ্তাই বাঁধের সবগুলো জলকপাট খুলে দেয় কতৃপক্ষ।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ায় জলকপাটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।

এদিকে, বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী এলাকাসহ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলার বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত বাঁধের পানি নামতে শুরু করলে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিজ্ঞাপন

কাপ্তাই বাঁধের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র সারাবাংলাকে জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট দিয়ে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নির্গমন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রেখে টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও ২৪ হাজার কিউসেক পানি নদীতে নিগর্মন করা হচ্ছে। বর্তমানে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারটি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহের সারাবাংলাকে জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিলো ১০৬ দশমিক ৩০ এমএসএল। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৯.৯ ফুট বেশি পানি থাকায় নির্গমন পথ খুলে দিয়ে পানির চাপ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে।

তিনি আরও জানান, পানির স্তর বাড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচটি ইউনিট চালু করা হলেও মঙ্গলবার বিকেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চারটি ইউনিট বর্তমানে সচল আছে।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম এই বাঁধটি। এই বাঁধে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ রয়েছে। ১৬টি জলকপাট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নির্গমন করতে পারে।

সারাবাংলা/ওএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন