বৃহস্পতিবার ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, বিঘ্নিত রেল যোগাযোগ

জুলাই ১৭, ২০১৯ | ১:০৩ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ১৪৩, ঘাঘট নদীর পানি ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই দুই নদীর পানির তোড়ে বিঘ্নিত হয়েছে রেল যোগাযোগ। অতিরিক্ত পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট ও গাইবান্ধা-লক্ষীপুর-রংপুর সড়ক।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গাইবান্ধা জেলার কয়েক জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

গাইবান্ধা জেলা শহরের আলাই নদীর পানি মুন্সিপাড়া, বানিয়ারজান, কুঠিপাড়া সবুজপাড়া, পূর্বপাড়া, ডেভিড কোম্পানীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরের পুরাতন বাজারে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বানের পানিতে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, পুকুর ও মৎস্য প্রকল্পের মাছ ভেসে গেছে।

অতিরিক্ত পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট ও গাইবান্ধা-লক্ষীপুর-রংপুর সড়ক। জেলায় বন্যায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘরবাড়ী ডুবে যাওয়ায় মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন সড়কে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বন্যাকবলিতরা। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। শৌচাগার না থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নেয়া মহিলারা পড়েছেন বিপাকে।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ২২৪টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৬ জন মানুষ। কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১২ কিলোমিটার ও বাঁধ চার কিলোমিটার। বন্যার পানিতে কালভার্ট ধসে গেছে ১৫টি, ফসল নিমজ্জিত রয়েছে এক হাজার ৭৫৪ হেক্টর ও ৩২৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় বন্যার পানি বাড়ছেই

গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট

ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০টি, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১১৪টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২০ হাজার ৭২৬ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা রয়েছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ১৩০টি।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অন্যান্য বাঁধের অনেকগুলো এলাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন
Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন