শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘আমরা অধ্যাপক ফারুকের পাশে আছি’

জুলাই ১৭, ২০১৯ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ। বুধবার (১৭ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নেতৃত্বে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক সঙ্গে একাত্মতা জানায় বেশকিছু সংগঠন। এ সময় সংগঠনগুলোর হয়ে অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে লিখিত বিবৃতি উপস্থাপন করেন পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

ঢাবি অধ্যাপকের পাশে আছেন জানিয়ে ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘গবেষণার ফল প্রকাশ করায় একজন আমলা অধ্যাপক ফারুককে হুমকি দিয়েছেন, জেল খাটানোর ভয় দেখিয়েছেন। আমরা কোন দেশে বাস করি? একজন আমলা কিভাবে একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার সাহস পায়! আমলার কাছ থেকে কি গবেষণা শিখতে হবে? সাংবাদিকরা কিভাবে সংবাদ লিখবেন, চিকিৎসকরা কিভাবে চিকিৎসা করবে সেটি কি ওই আমলা শিখিয়ে দেবেন? আমরা অধ্যাপক ফারুকের পাশে আছি।’

আ ব ম ফারুককে সাধুবাদ জানিয়ে লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘দুধ একটি অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য। শিশু, বৃদ্ধসহ সকল বয়সী মানুষেরা খাদ্যটি খায়। এখানে ভেজাল মিশিয়ে একটি গোষ্ঠি দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল। যে গবেষক এই বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন তাকে অবশ্যই বাহবা দিতে হবে।’

আরও পড়ুন : অধ্যাপক ফারুককে হুমকির প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ শিক্ষকের

বিজ্ঞাপন

লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একটি বাজে সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। দুধসহ অন্যান্য খাবারগুলোও দূষিত করে ফেলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জোরালো অবস্থান নিতে হবে। যা খারাপ তাকে স্পষ্টভাবে খারাপ বলতে হবে। কোনো লুকোচুরি করা যাবে না।

লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুধ পরীক্ষা করাবে বলেছে সেখানে যেন গবেষণার মান বজায় রাখা হয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠানো স্যাম্পল না দিয়ে র‌্যান্ডম স্যাম্পল সংগ্রহ করতে হবে। না হলে দুধ পরীক্ষায় সঠিক ফল পাওয়া যাবে না।’

এ সময় আ ব ম ফারুকের পক্ষে পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘জীবন ধারণের জন্য আমরা আসলে কি খাচ্ছি সেটি অধ্যাপক ফারুক আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। সে কারণে একজন আমলার গাত্রদাহ হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব আমাদের খাদ্যে দূষণ বন্ধ করতে হবে। না হলে এই দেশের সব মানুষ বড় আকারের স্বাস্থঝুঁকিতে পড়বে।’

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘আমি দুধে পানি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। পরে সেখানে ভয়ানক দূষণের উপস্থিতি পেয়ে সেটি জনস্বার্থে প্রকাশ করেছি। এতে নাকি আমার দোষ হয়েছে! ভেজালসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে জেলের ভয় দেখানো হচ্ছে! এই দেশের মানুষকে ভালবেসেই কাজটি করেছি, দেশকে ছোট করতে নয়। সেটি বুঝতে হবে।’

দুধে যারা ভেজাল দেয় তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘এই ভেজাল সন্ত্রাসীদের এখনি বিচারের আওতায় আনা হোক। ভেজাল যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। নইলে স্বাস্থ্য খাতে বড় বিপদে পড়বে বাংলাদেশ।’

‘ঢাবি অধ্যাপকের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষনা জনস্বার্থে করণীয়’ শিরোনামে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে পবা ছাড়াও অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, জনউদ্যোগ, বিসিএইচআরডি, সুবন্ধন, ডক্টর্স ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, এএসবিডি ও গ্রীণফোর্স নামে বেশ কয়েকটি সংগঠন ।

সারাবাংলা/টিএস/জেএএম/জেডএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন