রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ইংরেজি ও আইসিটি’র কারণে বাড়েনি পাসের হার

জুলাই ১৭, ২০১৯ | ৫:২৫ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার আগের বছরের চেয়ে ‘সামান্য’ কমেছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল করায় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাশের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। গতবছর পাশের হার ছিল ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পাশের হার কমেছে দশমিক ৫৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান। তিনি বলেন, ‘পাশের হার গতবছরের চেয়ে সামান্য কমেছে। তবে কলেজ এবং পরীক্ষার্থী বেড়েছে। এই হিসেব করলে বলা যেতে পারে- পাশের হার সমান। তেমন বাড়েওনি, কমেওনি। তবে জিপিএ ফাইভ এবার বেড়েছে। কিন্তু উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিলে জিপিএ ফাইফ প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।’

গতবারের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ফল খারাপ হয়নি বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। গতবছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯৬ হাজার ৮৫৮ জন ছাত্রছাত্রী। এবার অংশ নিয়েছে ৯৮ হাজার ৯২৬ জন। গতবারের চেয়ে এবার কলেজের সংখ্যাও বেড়েছে। গতবার ছিল ২৫৩টি, এবার ২৬০টি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবছর ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন। গতবছর পাস করেছিল ৬০ হাজার ৭৫৫ জন। এছাড়া, এবছর জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী। গতবছর পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১৩ জন।

পাসের ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। এবার ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ ছাত্র পাস করেছেন। ছাত্রী পাস করেছেন ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। সেখানে পাশের হার ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় পাশের হার ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ‘পাহাড়ের জেলাগুলো কিছুটা পিছিয়ে আছে। এর নানা কারণ আছে। সমতলের চেয়ে সেখানে সুযোগ-সুবিধা কম। শিক্ষকের অভাব আছে। মানসম্মত শিক্ষার অভাব আছে।’

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে জেলার গ্রাম-গঞ্জের কলেজগুলো। চট্টগ্রাম মহানগরে পাশের হার ৭৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাশের হার ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান জানিয়েছেন, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা সার্বিকভাবে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল করেছে।

ইংরেজি বিষয়ে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের পাসের হার ৯৭ দশমিক ০৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৬৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৯১ শতাংশ।

আইসিটি বিষয়ে বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ, মানবিকে ৭৪ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

মাহবুব হাসান বলেন, ‘ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে সামগ্রিকভাবে খারাপ ফল হয়েছে। মহানগরের বাইরের যেসব কলেজ আছে, সেখানকার পরীক্ষার্থীরা এই দুই বিষয়ে বেশি খারাপ করেছেন। এজন্য সার্বিক পাসের হার এবং জিপিএ ফাইভের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে, পিছিয়ে গেছে নগরের বাইরের কলেজগুলোও।’

জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে মহানগরের বাইরের কলেজগুলো। এবার জিপিএ ফাইভ পাওয়া ২৮৬০ জন শিক্ষার্থীর ২৫১৯ জনই মহানগরের বিভিন্ন কলেজের। চট্টগ্রাম জেলার কলেজগুলোর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২৪১ জন, কক্সবাজারে ৫৬ জন, রাঙামাটিতে ৮ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫ জন এবং বান্দরবানে ২১ জন। মোট জিপিএ ফাইভ পাওয়া পরীক্ষার্থীর ৮৮ শতাংশই চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন কলেজের।

জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তির দিকে প্রথম স্থানে আছে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ। এই কলেজে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৫৫৫ জন। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে পেয়েছে ৫৩৪ জন। সরকারি সিটি কলেজ থেকে পেয়েছে ৩২১ জন। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পেয়েছে ২৫০ জন। চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে পেয়েছে ১৭৩ জন। সরকারি কমার্স কলেজ থেকে পেয়েছে ১৫৭ জন। ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পেয়েছে ৯৩ জন। ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পেয়েছে ৮৪ জন। পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে পেয়েছে ৬১ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার অংশ নেওয়া ২৬০টি কলেজের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে এমন কলেজের সংখ্যা ৩টি। একটি কলেজে পাসের হার শূন্য।

শতভাগ পাশ করেছে এমন কলেজগুলো হল- হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং কোয়ান্টাম কসমো হাইস্কুল।

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার অক্সফোর্ড মডার্ন কমার্স কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজটির নাম শূন্য পাসের হারের কলেজের তালিকায় এসেছে।

ফল ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব শওকত আলম, কলেজ পরিদর্শক জাহেদুল হক এবং উপ-পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র নাথ ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন