সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের সেরা ১০ মুহূর্ত

জুলাই ১৭, ২০১৯ | ১০:১৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ডেস্ক

স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হাতে শিরোপা বুঝিয়ে দেওয়ার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে দ্বাদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ১২তম বিশ্বকাপের আসর শেষে ১০টি সেরা মুহূর্ত নির্বাচন করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো। সেখানে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কীর্তিও স্থান পেয়েছে। সাকিবকে বলা হয়েছে ‘সুপারম্যান সাকিব’।

বিজ্ঞাপন

দেখে নেওয়া যাক কোন দশটি মুহূর্ত স্থান করে নিয়েছে ক্রিকইনফোর বানানো তালিকায়:

    

১। কোহলি-স্মিথ: বিশ্বকাপের আসর দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন এক বছরের জন্য। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ফিল্ডিং করতে থাকা স্মিথকে ভারতীয় উগ্র সমর্থকরা প্রতারক বলে গালি দিচ্ছিলেন। সে সময় উইকেটে ব্যাট করছিলেন কোহলি। ভারতীয় দলপতি এক সময় ব্যাট করা বন্ধ করে সমর্থকদের চুপ করতে অনুরোধ করেন। পরে স্মিথের সঙ্গে হাত মেলাতে গেলে কোহলির পিঠ চাপড়ে দেন অজি সাবেক অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

২। পাকিস্তানের ঘাড়ে ১৯৯২’র ভূত: প্রথমদিকে ব্যাপারটা শুধু মজা হলেও পরে সবকিছুই যেন সিরিয়াস হতে থাকে। ১৯৯২’র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। এই আসরের ম্যাচগুলোর ফলাফল হুবহু মিলে যাচ্ছিল সেবারের মতো। যে ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছিল এই আসরেও সেভাবেই জিতেছিল। সেবার যে ম্যাচে হেরেছিল এবার সেই ম্যাচে হেরেছিল পাকিস্তান। আবার যে ম্যাচটি সেবার বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল এবার সেই ম্যাচটিও বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। এমনকি সেবার পাকিস্তানের কাছে হারার আগে নিউজিল্যান্ড ছিল অপরাজিত, এবারো তাই। শেষ অবধি নেট রানরেটে কিউইদের টপকাতে না পারায় সেমি ফাইনালের আগেই বিদায় নেয় পাকিস্তান।

৩। বল অব দ্য টুর্নামেন্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে বোলারদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ম্যাচ বের নিচ্ছিলো ক্যারিবীয়ানরা। শেষ সময়ে বল হাতে তুলে নেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবার বোলিংয়ে আসা ম্যাথিউস নিজের প্রথম বলেই বিদায় করেন সেঞ্চুরিয়ান নিকোলাস পুরানকে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ১০৩ বলে ১১৮ রান। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার আর চারটি ছক্কার মার। ম্যাথিউস ২ ওভারে ৬ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে হারিয়ে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

৪। রশিদ খানের লজ্জা: এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি দল কমপক্ষে দুটি করে ম্যাচ জিতলেও কোনো ম্যাচ জেতা হয়নি আফগানিস্তানের। বিশ্বকাপের আগে এবং বিশ্বকাপ চলাকালীন আফগান ক্রিকেটাররা ছিলেন বিতর্কিত। মাঠে আর মাঠের বাইরে তাদের কথার সাথে কাজের কোনো মিল ছিল না। প্রতিপক্ষকে নিয়ে একটু বেশিই কথা বলেছিলেন রশিদ খান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এই লেগ স্পিনারকে লজ্জায় ডুবতে হয়। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান দেওয়ার বাজে রেকর্ড গড়েন তিনি। ইংলিশরা তার উপর এতটাই চড়াও হয়েছিল যে ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন রশিদ খান।

৫। মিচেল স্টার্কের বিশ্ব রেকর্ড: অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা এই বিশ্বকাপের আগে এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট নিয়ে চূড়ায় বসেছিলেন। এই আসরে ম্যাকগ্রাকে টপকে গেছেন তারই উত্তরসূরি পেসার মিচেল স্টার্ক। এক আসরে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন স্টার্ক। এই বিশ্বকাপের আগের বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি (২২)। যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই যেন শুরু করেছিলেন স্টার্ক।

৬। হিটম্যান রোহিত: এক আসরে সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরি করে শীর্ষে ছিলেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা। এবারের আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরি করে সাঙ্গাকারাকে টপকে নিজের নামের পাশে রেকর্ডটি লিখে নিয়েছেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা। এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে থেকে রোহিত করেছেন ৬৪৮ রান। তার সেঞ্চুরির ইনিংসগুলো ১২২*, ১৪০, ১০২, ১০৪ এবং ১০৩।

৭। সুপারম্যান সাকিব: প্রতি ম্যাচেই ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন সাকিব। আট ম্যাচের আট ইনিংসে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়ে সাকিব রান করেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রান। তার ব্যাটিং গড় ছিল অন্য সবার থেকে বেশি (৮৬.৫৭)। আট ইনিংসের সাতটিতেই ফিফটি প্লাস ইনিংস। এই কীর্তি ছিল শচীন টেন্ডুলকারের। সাকিবের ব্যাট থেকে দুটি সেঞ্চুরি আর পাঁচটি ফিফটির ইনিংস আসে। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ১২৪ রান। সেমিতে সাকিব খেলতে না পারলেও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি তাদের সাজানো বিশ্বসেরা একাদশে সাকিবকে বাদ দিতে পারেনি।

৮। ব্রাথওয়েটের মন জয় করা ইনিংস: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। হাতে তখনও এক ওভার আছে, সেঞ্চুরিয়ান ব্রাথওয়েট ৪৯তম ওভারের শেষ বলটিতে ছক্কা হাঁকাতে গেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেন স্টোকসকে পর পর চার বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিবীয়ানদের শিরোপা জেতানোর নায়ক ব্রাথওয়েট এই ম্যাচেও হয়তো ছক্কা হাঁকিয়ে জিততে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাউন্ডারি সীমানায় ট্রেন্ট বোল্টের অসাধারণ এক ক্যাচে শেষ ব্যাটসম্যান ব্রাথওয়েট আউট হন, ক্যারিবীয়ানরা ৫ রানে হেরে যায় ম্যাচটি। হারলেও ব্রাথওয়েটের নায়কোচিত ইনিংস সবার মন জয় করে নিয়েছিল।

৯। ম্যাচ জেতানো গাপটিলের থ্রো: প্রথম সেমি ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত-নিউজিল্যান্ড। স্বল্প পুঁজিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল কিউইরা। ভারতের টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে দলীয় ২৪ রানে ফিরিয়েও দিয়েছিল কিউইরা। একটা সময় রবীন্দ্র জাদেজা আর মহেন্দ্র সিং ধোনি ম্যাচটা প্রায় বের করেই নিয়েছিলেন। জয়ের পথে থাকা ভারতের ভরসার জায়গা তখন ধোনি। সাবেক এই দলপতিকে সরাসরি এক থ্রো থেকে রানআউট করেন মার্টিন গাপটিল। ম্যাচের ভাগ্য হয়তো তখনই বদল করে দিয়েছিলেন পুরো টুর্নামেন্টে অফফর্মে থাকা গাপটিল। তখন কিউই এই তারকাকেই সেরা ফিল্ডারের উপাধি দেওয়া হয়।

১০। সুপার ওভারের ফাইনাল ড্রামা: দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনালটি হয়ে থাকবে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম এক ফাইনাল। যেখানে রান কিংবা উইকেটের ব্যবধানে কেউ কাউকে হারাতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে ইংলিশদের ইনিংসও থামে সেখানে। সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে ইংলিশদের করা ১৫ রান টপকাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। সেখানেও টাই হয় ফাইনালের ম্যাচটি। পুরো ম্যাচে কে কয়টা বাউন্ডারি মেরেছে সেই হিসেব বের করে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় ইংল্যান্ডকে। ক্রিকেটের আধুনিক জনক ইংলিশদের হাতে প্রথমবারের মতো উঠে বিশ্বকাপের শিরোপা।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন