বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়ার বাড়ছে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা

জুলাই ১৮, ২০১৯ | ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

রোকেয়া সরণি ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ায় নারীর প্রতি পারিবারিক যৌন সহিংসতা রীতিমত মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, এখানে বৈবাহিক ধর্ষণের মত অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা নেওয়া হচ্ছে না, যা নারীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ভয়াবহ দুটো ঘটনা এই পরিস্থিতিকে সামনে এনেছে।

এক সপ্তাহ আগে জাকার্তায় এক নারী যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকার করায় সাত ও ১৪ বছর বয়সী দুই সন্তানের সামনেই তার স্বামী তাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে গলায় কোপ দেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। ৩৪ বছর বয়সী সেই নারী এখন কিছুটা সুস্থ এবং কথা বলার মতো শারীরিক অবস্থা ফিরে পেয়েছেন।

আর এই সপ্তাহে পশ্চিম জাভার তিন সন্তানের এক জননী তার স্বামী ‘যৌন সম্পর্কের কোটা’ পূরণের দাবি জানালে স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কোপ দেন। মাত্র দুই মাস আগে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়া ওই নারী ‘পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন’ বা প্রসব পরবর্তী বিষন্নতায় ভুগছিলেন বলে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানায়।

বিজ্ঞাপন

হান্না-আল-রাশিদ নামে ইন্দোনেশিয়ার এক মানবাধিকারকর্মী গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ঘটনাগুলো যেমন নির্মম তেমনই অমানবিক আর অনেকটাই যেন চিত্রনাট্যের মত। ’ তিনি জানান, অধিকাংশ মিডিয়া এই ঘটনাগুলো তুলে না ধরায় তিনি অবাক হয়েছেন।

বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলো প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে। তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষ এটা ভাবতেই পারে না যে, বৈবাহিক ধর্ষণের অস্তিত্ব আছে।’

ইন্দোনেশিয়ায় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মহামারী আকার ধারণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এতো খারাপ হওয়া সত্ত্বেও তা নির্মূলে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

ইন্দোনেশিয়ার নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূর করার জাতীয় কমিশনের কর্মকর্তা মারিয়ানা আমির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে বিয়ে পরবর্তী সহিংসতাকে দীর্ঘদিন ধরেই ট্যাবু বা নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে ভাবা হয়। এই সমস্যা কতটা গভীরে তা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোই ইঙ্গিত দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় বৈবাহিক ধর্ষণকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হয়। স্বামীরা যখন চাইবে স্ত্রীরা তখনই যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য- সংস্কৃতিগতভাবেই সেখানে এভাবে দেখা হয়।’

দেশটির নারী অধিকারবিষয়ক জাতীয় কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশজুড়ে নারীর বিরুদ্ধে যত সহিংস ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই পারিবারিক নির্যাতন। এদিকে বৈবাহিক ধর্ষণের ঘটনাও দিন দিন বেড়ে চলেছে। কমিশনের বিশ্বাস, নারীরা এগিয়ে এসে অভিযোগ করছে বলেই এসব ঘটনা সামনে আসছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) নারী অধিকার সংস্থাগুলোর এক জোটের জরিপ থেকে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার নারীদের জনসমাগমের মধ্যেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট, গণপরিবহন, কর্মস্থল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- সব জায়গাতেই নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা।

ইন্দোনেশিয়ার ৩৪টি প্রদেশের প্রায় ৬২ হাজার মানুষের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৬০ শতাংশেরও বেশি নারী ১৬ বছর বয়সের আগেই নানারকম কথার দ্বারা (verbal abuse) যৌন হয়রানির শিকার হন।

নারী সংস্থার কর্মী রিকা রসভিয়ান্তি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় যৌন হয়রানির শিকার নারীদেরকেই দোষারোপ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার নারীদের পোশাককে যৌন উত্তেজক বলা হয়। আবার কখনও কখনও মেয়েদের একা রাতে বের হওয়াকে দোষারোপ করা হয়।’

অথচ, এই জরিপের ফলে দেখা যায় সমাজের সব ক্ষেত্রের নারীরাই হয়রানির শিকার হন। শরীর ও মুখ ঢাকা নারীরা দিনের বেলায়ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, বলেন তিনি।

একই জরিপে দেখা গেছে, ১৭ শতাংশ নারী হিজাব পরা অবস্থায় যৌন হয়রানির শিকার হন, ৩৫ শতাংশ নারী দিনের বেলা এবং ২১ শতাংশ নারী রাতের বেলা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

জরিপ প্রকাশের পর আল-রশিদ সবাইকে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অন্তত একটি মেয়েকেও যদি যৌন হয়রানি থেকে রক্কা করা যায়, সেটাও সমাজে অনেকটা প্রভাব ফেলবে, বলেন তিনি।

সারাবাংলা/আরএফ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন