রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পাটুয়াটুলীতে ভবন ধস: ছিল বাকি খাজনা, তাই মেরামতে ‘না’

জুলাই ১৮, ২০১৯ | ৮:৩১ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার ৬ নম্বর পাটুয়াটুলি লেনের ভেতরে একটি তিনতলা ভবন ধসে বাবা-ছেলেন মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, প্রায় ৮ বছর থেকে কেউ খাজনা পরিশোধ না করায় ভবনটি মেরামতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর ভবনের দেখভালকারী জুয়েল রানা বলেছেন, ‘বারবার ঘুরেও মেরামতের অনুমতি না পাওয়াতেই বেশ কয়েক বছরের খাজনা বাকি পড়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘৮ বছর কেউ খাজনা পরিশোধ করেনি, তাই ভবনটি সংস্কারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া যারা নিয়মিত খাজনা আদায় করেছে এবং নিয়ম মেনে সংস্কারের অনুমতির আবেদন করেছিল তাদের সবাইকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা পুরনো ভবন ভেঙে ফেলে সেখানে নতুন ভবন তুলেছেন।’

জানা গেছে, পাটুয়াটুলী, ইসলামপুর ও শাঁখারি বাজার এলাকায় অন্তত এরকম চার হাজার ছোট বড় জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে; যেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে অনেক আগেই। এরপরও অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার নিয়ে সেখানে বাস করে আসছে। এখন ওইসব ভবনে আদৌ কাউকে থাকতে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। অচিরেই সেসব ভবনে অভিযান চালানো হবে বলেও ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়।

ধসে পড়া ওই ভবনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ তিনতলা ওই ভবনটির একাংশ ধসে পড়েছে। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে যেন, সেখানে জঙ্গল ছাড়া কিছুই নেই। সেখানে ঢোকার রাস্তাও তেমন নেই। ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু রাস্তা রয়েছে প্রবেশের। নিচতলার পরিবেশ দেখে যে কারও মনে হবে, যেন সেখানে বন্যপ্রাণী বাস করে।

বিজ্ঞাপন

এমন ভুতূড়ে পরিবেশের জরাজীর্ণ একটি ভবনে কেন লোকজন বাস করত জানতে চাইলে ৬ নম্বর লেনের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফুটপাতে ফলের দোকান করতো ওই বাবা-ছেলে। রাত ১২টার দিকে তারা ভবনটির নিচতলায় থাকত। এছাড়া সেখানে আর কেউ প্রবেশ করত না। কারণ সেখানে প্রবেশ করার মতো কোনো পরিবেশ নেই।’

মো. সোহেল রানা, যিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে ৬ নম্বর লেনের আরেক ফ্লাটে বাস করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ধসে পড়া ভবনটির বয়স আনুমানিক ১৫০ বছর হবে। ওই সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভবনটি তৈরি করেছিলেন। তারা দেশ ছেড়ে চলে গেলে অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা পায় জেলা প্রশাসন। ১৯৬৫ সাল থেকে ওই ভবনটিসহ আরও বেশ কিছু ভবন লিজ নিয়ে স্থানীয়রা বাস করে আসছেন। বাদশা মোল্লা নামে এক ব্যক্তি ধসে পড়া ভবনটি লিজ নিয়ে বাস করতেন। তিনি মারা গেলে তার ছেলে ইয়াসীন আলী এটিতে থাকতেন। তিনিও মারা গেলে তার ছেলে জুয়েল রানা ভবনটির দায়িত্ব পান বলে জানান সোহেল রানা।

পাটুয়াটুলীতে ভবন ধসে নিখোঁজ বাবা-ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার

জুয়েল রানা এখন রাজধানীর জুরাইনের কুলিবাড়ি এলাকায় থাকেন। জানতে চাইলে জুয়েল রানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘৪০ ফুট বাই ২০ ফুট সাইজের ভবনটিতে দশ বছর থেকে কেউ বাস করে না। কিছুদিন আগে ফল ব্যবসায়ী জাহিদুল ব্যাপারী ফোন করে বলল, ফুটপাতে ফল বেঁচেন তাই বাসা ভাড়া করে বাবা-ছেলের থাকার মতো অবস্থা নেই। বারবার নিষেধ করার পরও তারা থাকতে চান সেখানে। এরপর আমি আর কিছু বলিনি, এর বিনিময়ে জাহিদুল ব্যাপারীর কাছ থেকে কোনো টাকা নিতাম না। এরপর গতকাল জানতে পারি ভবনের ছাদ ধ্বসে জাহিদুল (৬০) ও তার ছেলে শফিকুল (১৭) মারা গেছে। তাদের বাড়ি শরীয়তপুরে।’

পাটুয়াটুলী লেনের আরেক বাসিন্দা এনামুল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘একটি ভবন ধসে পড়েছে, বাকিগুলোও পড়বে এমন অজুহাতে কাউকে আবাসন ছাড়া করা যাবে না। সেটি করলে মানুষের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসনকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে বাসিন্দারাও থাকতে পারেন, আবার ভবনের সংস্কারও হয়।’

সারাবাংলা/ইউজে/এমও

বিজ্ঞাপন
Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন