শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

স্বৈরাচারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে সরকার: ফখরুল

জুলাই ১৮, ২০১৯ | ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বরিশাল: সরকার গণতন্ত্রহত্যাকারী ‘স্বৈরাচারকে’ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসকের সঙ্গে আপস করে, তাদের সঙ্গে জোট করে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। আজকে এরশাদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ১৯৭১ সালে পাকসেনাদের হাতে বন্দি থাকলেন, তাকে কারাগারের অন্ধকারে অন্ত্যরীণ রাখা হয়।’

তিনি বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটা সত্য যে, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্র ধবংস করা হয়েছে, এটা সত্য যে, তার আমলেই আমাদের বহু মানুষ, ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

এদেশের মানুষ কখনো পরাজয় স্বীকার করেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সমস্ত দাবি আদায় করেছি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আমরা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন করেছি, ১৯৫৪ সালে সব দল এক হয়ে যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে স্বৈরাচার মুসলিম লীগকে পরাজিত করেছি, আমরাই ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে স্বৈরাচার আইয়ুব খানকে পরাজিত করেছি, আমরাই স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাক স্বৈরাচারকে হটিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তৈরি করেছি, আমরাই ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে তাদেরকে পরাজিত করেছি এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।’

‘আমাদের অধিকার আমাদেরই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের অধিকার অন্য কেউ কি রক্ষা করে দেবে? খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন কি অন্য কেউ করবে? আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের ফিরিয়ে আনার আন্দোলন কি অন্য কেউ করবে? বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আন্দোলন কি অন্য কেউ করবে?— সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘বরিশাল থেকে আন্দোলনের সূচনা হলো। সরকারকে বলব, কাল বিলম্ব না করে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন। তাকে যদি মুক্তি না দেন আপনাদেরও রক্ষা হবে না।’

সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা, প্রত্যেকটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। কৃষকরা তার ধানের দাম পায় না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। কারণ, তাদের ওপর ভর করে সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘খবরের কাগজ খুললেই ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নেই। শুধু হত্যা আর হত্যা। আদালতও হত্যা থেকে বাদ যাচ্ছে না। মেগা প্রজেক্টের নামে, মেগা উন্নয়নের নামে তারা নিজেদের পকেট বোঝাই করছে। মানুষের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এ সরকার যদি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার হারাবে এবং বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি অকার্য্কর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এ জনসভায় ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়া প্রতিকৃতি সংবলিত প্ল্যাকার্ডসহ উপস্থিত হন। তারা মূর্হুমূর্হু স্লোগান দেন, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই.’ ‘আর কোনো দাবি নাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘বরিশাল একটি সংগ্রামুখর বিভাগ, যারা হারতে জানে না। আজকে এখান থেকে সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন। তা নাহলে বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে যে আন্দোলন শুরু হবে, তাতে আপনারা পালাবার পথ পাবেন না।’

ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এসব মিছিল-মিটিং, মানববন্ধনে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে ঢাকা শহরে একদিন যেতে হবে। ঢাকার রাজপথে বেশি না এক লাখ লোক আমরা বসি শান্তিপূর্ণভাবে, রাজপথে থাকি। আমাদের পক্ষে লাখ লাখ মানুষ যোগ দেবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এর সবগুলো রাজনৈতিক মামলা। আমরা ৩৫টি মামলায় জামিন নিয়েছি। বাকি আছে দুইটি। আমরা আইনি লড়াই করছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষও রাজনৈতিকভাবে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে চায়। আমি বিশ্বাস করি আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম-দুইয়ে মিলনে আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, জয়নাল আবেদীন, কেন্দ্রীয় নেতা বিলকিস জাহান শিরিন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আকন কুদ্দুছুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, হাফিজ ইব্রাহিম, মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, আবুল হোসেন খান, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, হাসান মামুন, হায়দার আলী লেলিন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নুরুল ইসলাম নয়ন, মোস্তাফিজুর রহমান, এলিজা জামানসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এজেড/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন