বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চলছে ‘মৎস্য মেলা’, আগামীর ভরসা চাষের মাছেই

জুলাই ১৯, ২০১৯ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে চলছে সপ্তাহব্যাপী জমজমাট ‘মৎস্য মেলা’। মেলায় দেখা মিলেছে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতিসহ দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছের। তবে মাছচাষী, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের কথায় মিলছে, দেশী নয় আগামী দিনে চাষের মাছই হবে দেশের চাহিদা পূরণে অন্যতম ভরসা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে মেলা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. শফিকুজ্জোহা জানান, বিপুল জনগোষ্ঠীর মাছের চাহিদা পূরণে এখন চাষের মাছই ভরষা হবে। প্রাকৃতিক মাছের বেড়ে ওঠার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিভিন্ন কারণে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিক জলাধার থেকে দেশীয় মাছ বিভিন্ন কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই দেশীয় মাছের চেয়ে চাষের মাছই এখন পুষ্টির চাহিদা পূরণের অন্যতম অংশীদার।

ভাই ভাই ফিস সিড প্ল্যান্টের স্বত্ত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান বলেন, “আমাদের সিজনাল বিজনেস, শীতকাল অফ সিজন থাকে। তখনও এই ‘মা’ মাছগুলো কিন্তু আমরা বিক্রি করতে পারি না। বিক্রি করলে আগামীতে মা মাছ আবার পাব না। তবে প্রতিবছর আমরা নতুন মা মাছও অ্যাডও করি। কিন্তু অফ সিজনেও মাছগুলোকে খাবার দিতে হয়। তখন কিন্তু আমরা মাছ থেকে আয় করতে পারিনা। আর যে বছর প্রাকৃতিক মাছ হাওর-বাওড়ে বেশি হয়, ওই বছর আমাদের বিজনেস খারাপ যায়। তখন আমাদের লস হয়।”

বিজ্ঞাপন

চাষের মাছ এবং প্রাকৃতিক মাছের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের তারতম্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটা তো থাকবেই। চাষের মাছ আর প্রাকৃতিক মাছ, এটা তো যে কেউ খেলেই টের পাবেন।

মেলায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজনন উৎস্য বা চারণভূমি কমে যাচ্ছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার, কীটনাশক ব্যবহারসহ জলবায়ু ও পরিবেশগত বিভিন্ন বৈরিতার কারণে হাওর, পুকুর, নদী, জলাধার ও সাগরে মাছের প্রজনন কম হচ্ছে। প্রাকৃতিক মাছ যাতে বিলীন হয়ে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার নজর দেওয়া উচিত।

‘বন্ধন মৎস্য হ্যাচারি’ ও ফিসারিজের কর্মচারী ফরিদ উদ্দিন জানান, আমাদের সামনে চাষের মাছ ছাড়া বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উৎস্যের মাছ বিশাল চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। আর সামুদ্রিক মাছের দামও তো অনেকের হাতের নাগালের বাইরে।

মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখার পাশাপাশি তাজা মাছের ভাজা খাওয়ারও রয়েছে সুব্যবস্থা। হেলদি ফুড লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য পছন্দ মত মাছ কিনে ফ্রাইয়ের স্বাদ নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

গত বুধবার থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯’। এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ বছর মৎস্য খাতে অবদানের জন্য ১৭ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার-২০১৯’ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার তুলে দেন।

সারাবাংলা/এনআর/এমও

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন