বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না’

জুলাই ২০, ২০১৯ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি: মানুষকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করা, সত্য দিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা এবং সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি এবং বায়োমেডিকেল রিসার্চ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক হোসেন।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘আমরা কোনো কোম্পানির পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করিনি। আমাদের দুগ্ধশিল্প যাতে উন্নত হতে পারে, বাচ্চারা যাতে ভালোমানের দুধ পায়, আমরা সবাই যেন মানসম্মত ও নিরাপদ দুধ পান করতে পারি- সেটাই আমাদের গবেষণার উদ্দেশ্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, মানহীন দুধ দিয়ে ডেইরি সেক্টরের উন্নতি হবে না। মানসম্পন্ন দুধটাই আমাদের লাগবে। ডেইরি সেক্টরের উন্নতির জন্য কোম্পানিগুলো যদি কোনো সহায়তা চায়, আমরা নিশ্চয়ই তাদের সহযোগিতা করব। ’

বিজ্ঞাপন

এ সময় তিনি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সত্যে আসেন। বিজ্ঞান হলো সত্য। আমরা এমন কিছু বলব না, যে কারণে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সত্য কখনও আমাদের বঞ্চনা করে না। এই সত্যকে অবলম্বন করেই আমাদের মুক্তির দিকে যেতে হবে। সমস্যা দূর করতে হবে।’

‘তরল পদার্থ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত সহজভাবে সমাধান করা যায়’- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাস্তুরাইজেশন ইউনিটে যারা কাজ করে তাদের আরেকটু উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গরু রোগে আক্রান্ত হবেই। তারা জীবন্ত প্রাণি। তাই তাদের চিকিৎসাও করাতে হবে। তবে নিয়ম হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পর একটা উইথড্রো পিরিয়ড আছে। ওইদিন পর্যন্ত গরুর দুধ পান করা যাবে না। এটা খুবই জরুরি। কমপক্ষে ২১ দিন গরুর দুধ নেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গরুকে চিকিৎসার সময় হিউম্যান অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। গরুর খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া থাকে সেগুলো বিবেচনা করলেই এসব সমস্যার সমাধান কঠিন কিছু না ‘

উকিল নোটিশের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যাকে লিগ্যাল নোটিশও বলা যায়। আমি এত বড় লোক নই বলে কোনো আইনজীবী দিয়ে নোটিশ পাঠায়নি। আমি সময়মত সেটার উত্তর দিয়েছি। আমি আমার বিবেকমত যতটুকু বলার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ততটুকুই বলেছি।’

গবেষণার ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের গবেষণার ব্যাপারে সবার ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। যারা দু-একটা কথা বলে তারা আমাদের সামনে বলেন না।’

গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন,আমাদের গবেষণা কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে নয়। বরং আমরা দুধ সেক্টরটাকে উন্নত দেখতে চাই। আমরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ দুধ পান করতে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন প্রমুখ।

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন