সোমবার ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নিজের সিদ্ধান্তকে ‘বিচারিক ত্রুটি’ বললেন ধর্মসেনা

জুলাই ২১, ২০১৯ | ৪:২৬ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের ১২তম আসরের ফাইনালে দেখা গেছে সুপার ওভার। অনেক নাটকীয়তার পর সুপার ওভারেও ফলাফল নির্ধারিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি সংখ্যায় নির্ধারিত হয় চ্যাম্পিয়ন দল। ফাইনালের এই ম্যাচ জুড়ে জন্ম নিয়েছিল বেশ কিছু বিতর্ক, ছিল আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত। তার মধ্যে একটি বেন স্টোকসের ব্যাটে বল লেগে বাউন্ডারি হয়ে যাওয়া।

বিজ্ঞাপন

ওই ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা। আইসিসির বিতর্কিত আইন ধর্মসেনার সিদ্ধান্তকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। কারণ সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না এই ঘটনা সম্পর্কে।

আইসিসির আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত রান যোগ হবে দলীয় স্কোর বোর্ডে। কিন্তু একই নিয়ম বলছে ওই বলে ছয় রান না, যোগ হবে পাঁচ রান। কারণ যখন মার্টিন গাপটিল বল ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ঠিক সে মুহূর্তে দুই ব্যাটসম্যান রান নেওয়ার জন্য একে অপরকে অতিক্রম করেননি। যদিও ধর্মসেনা ইংলিশদের স্কোরবোর্ডে ৬ রান যোগ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। আর এই জন্যই উঠেছে যতো বিতর্ক। হয়তো এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তই ইংলিশদের এনে দিয়েছে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

ঘটনার এতোদিন পর মুখ খুলেছেন লঙ্কান এই আম্পায়ার। ওই ঘটনা নিয়ে সানডে টাইমসকে ধর্মসেনা জানিয়েছেন, ‘টিভি রিপ্লে দেখার পর আমি একমত যে, ওটা ছিল বিচারিক ত্রুটি। কিন্তু মাঠে আমাদের জন্য টিভি রিপ্লে দেখার মতো বিলাসিতা ছিল না। আমি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছি সেটা নিয়ে আমি কখনোই অনুতপ্ত নই।’

বিজ্ঞাপন

ধর্মসেনা ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কথা বলেই ৬ রানের সিগনাল দিয়েছিলেন বলে জানান। আইসিসির আইন অনুযায়ী ধর্মসেনা তার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জানিয়ে যোগ করেন, ‘কোনো ডিসমিসালের ব্যাপার জড়িত না থাকলে থার্ড আম্পায়ারকে ডাকার কোনো বিধান আইসিসির আইনে নেই। তাই আমি লেগ আম্পায়ারের (এরাসমাস) সঙ্গে যোগাযোগ করি, আমাদের কথপোকথন অন্যান্য ম্যাচ অফিসিয়ালরাও শুনেছেন। ম্যাচ রেফারিও শুনেছেন। তারা টিভি রিপ্লে পরীক্ষা করতে পারেন না, তারা সবাই নিশ্চিত ছিলেন যে ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় রান সম্পন্ন করেছে। এরপরই আমি আমার সিদ্ধান্ত দিয়েছি।’

ফাইনাল ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ৪৯.৪ ওভারের বল করেন কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট, ব্যাট হাতে বেন স্টোকস সজোরে বল ঠেলে দেন ডিপ মিডউইকেটে। স্টোকস ডাবল রান নিতে স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছুটেছিলেন। মিড উইকেট থেকে মার্টিন গাপটিলও থ্রো করেন। স্টাম্পে সরাসরি লাগলে রানআউট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল স্টোকসের। রান আউট থেকে বাঁচতে ডাইভ দিয়েছিলেন স্টোকস। আর ডাইভ দেওয়ার পর গাপটিলের থ্রো করা বলটি তার ব্যাটে লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে পার হয় সীমানা! স্টোকসের ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুল যাই হোক, মাঠে দায়িত্বরত দুই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এবং মারাইস ইরাসমাস আলোচনা করে ইংলিশদের স্কোরবোর্ডে যোগ করেনন ৬ রান (দৌড়ে ২ রান ও ওভার থ্রোতে ৪ রান)। আর এতেই ৩ বলে ৯ রান থেকে সমীকরণ নেমে আসে ২ বলে ৩ রান। এরপর? এরপর বাকিটা ইতিহাস। যদিও বিতর্ক উঠে আম্পায়ারের দেওয়া ইংলিশদের ব্যাটিং ইনিংসের ৪৯.৪ ওভারের ৬ রান নিয়ে।

সংবাদমাধ্যম থেকে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ওটা ৬ রান, নাকি ৫ রান হবে? আর এ প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটেরই ‘ফিল্ডারদের ওভারথ্রো কিংবা ইচ্ছাকৃত কাজ’ নিয়ে আইনের ১৯.৮ অনুচ্ছেদ। এই আইনে উল্লেখ আছে, ‘ফিল্ডারের ওভারথ্রো থেকে বাউন্ডারি হলে, বাউন্ডারি যোগ হবে এবং ব্যাটসম্যানরা একসঙ্গে যত রান নিয়েছেন সেটাও যোগ হবে। যদি থ্রোয়ের সময় ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে পার হয়ে যান।’ আর ১৯.৮ অনুচ্ছেদের শেষ লাইনটা নিয়েই যতো প্যাঁচ লেগেছে। ওই ঘটনার ভিডিও রিপ্লে থেকে পরিষ্কার দেখা যায়, গাপটিল থ্রো করার সময় ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস এবং আদিল রশিদ দ্বিতীয় রান নেওয়ার জন্য একে অপরকে পার করেননি। অর্থাৎ গাপটিল যখন থ্রোয়ের জন্য বল তুলছিলেন, স্টোকস তখন ননস্ট্রাইক প্রান্তে আর আদিল রশিদ স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিলেন। অর্থাৎ দৌড়ে ২ রান নয়, ১ রান যোগ হবে আর সঙ্গে বাউন্ডারি সহ মোট ৫ রান।

আইনটির অস্পষ্টতার কারণেই বিতর্ক উঠেছে। কারণ, ফিল্ডারদের থ্রো নিয়ে যেমন পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি, তেমনি গোটা প্রক্রিয়ায় ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। গাপটিলের থ্রো কিন্তু উইকেটরক্ষক বরাবরই ছিল। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লাগার কারণে তা ওভারথ্রো হয়।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন