বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নুসরাত হত্যা: সেদিন ১৫ মিনিট পরে পরীক্ষার হলে ঢুকেছিল মনি

জুলাই ২১, ২০১৯ | ৭:২২ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

ফেনী: ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষার হলে এসে বসেছিলেন তারই সহপাঠী কামরুন নাহার মনি। তবে আগুন ধরিয়ে পরীক্ষার কক্ষে ঢুকতে ১৫ মিনিট দেরি হয় তার। এরপর অবশ্য এক নাগাড়ে পুরো পরীক্ষা দেয় সে।

রোববার (২১ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নিজেদের জবানবন্দীতে এসব কথা জানিয়েছেন নুসরাতের তিন  সহপাঠী তাহমিনা আক্তার ও বিবি হাজেরা।

এই দুই সাক্ষীও সেদিন একই পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তারা আদালতকে জানায়, ৬ এপ্রিল হল পরিদর্শক সবাইকে খাতা ও প্রশ্নপত্র দেন। কিন্তু তার হাতে একটি কাগজ বেশি ছিল। তখন হল পরিদর্শক জানতে চান, কে কাগজ পায়নি। এর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রে প্রবেশ করে কামরুন নাহার মনি। ততক্ষণে পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পেরিয়েছে। এরপরই তারা শুনতে পায় যে, সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারের ছাদে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কারা যেন আগুন দিয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও তাদের সঙ্গে বসে পুরো পরীক্ষা দেয় মনি।

নুসরাত হত্যা: জবানবন্দিতে মনি জানালেন তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দীতে নুসরাতের আরেক সহপাঠী আবু বকর সিদ্দিক জানায়, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে যখন ছাদ থেকে নামানো হচ্ছিলো তখন তার শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। তখন সে নিজের পাঞ্জাবী খুলে নুসরাতকে পরিয়ে দেয়। এসময় পাপোস ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন ওই মাদরাসার একজন অফিস সহকারী ও দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল।

সব মিলয়ে নুসরাত হত্যা মামলার ৯২ জন স্বাক্ষির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে প্রতি কর্মদিবসেই সাক্ষ্যগ্রহণ চালাচ্ছেন আদালত।

সোমবার (২১ জুলাই) পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেল, জহির রায়হান, মো. আজহারুল ইসলাম, মো. ফারুক, এএসই আরিফুর রহমান সাক্ষ্য দেবেন।

নুসরাত হত্যা মামলা: সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে অজ্ঞান নুসরাতের মা

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠি নাসরিন সুলতানা, মাদরাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশ প্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন, দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়ের, মাদরাসার পরিচালনা কমিটি সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন ও সোনাগাজী মাদ্রাসার দপ্তরী মো. ইউসুফ, সোনাগাজী মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল করিম, সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসার পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকী, সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী তানজিনা বেগম সাথী ও মাদ্রাসা ছাত্রী বিবি জাহেদা বেগম তামান্না, মাদরাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, আয়া বেবী রাণী দাস, সহপাঠী আকলিমা আক্তার ও কায়সার মাহমুদ, মাদরাসার ছাত্রী ফাহমিদা আক্তার হামদুনা, নাসরিন সুলতানা ও হল পরিদর্শক কবির আহম্মদ, তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর সিদ্দিক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর হোসেননে  সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

সারাবাংলা/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন