শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ট্রেনে অন্তঃসত্ত্বা নারীর আসন দখল করে গন্তব্যে ডিআইজি

জুলাই ২১, ২০১৯ | ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী দেখেন তার কেবিনের সিট জুড়ে বসে আছেন রেলওয়ে পুলিশের এক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)। কেবিনে নিজের আসনে যেতে চাইলে ওই নারী তিনজন পুলিশ সদস্যের বাধার মুখে পড়েন। তাকে বলা হয়, ভেতরে ডিআইজি স্যার আছেন, এখন যাওয়া যাবে না। আপনি অন্য কেবিনে বসেন। এ সময় ওই নারী তার টিকিট দেখালেও ‘হুমকি দিয়ে’ তাকে পুলিশ সদস্যরা বের করে দেয় বলে অভিযোগ ট্রেনের ওই যাত্রীর।

বিজ্ঞাপন

অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী আধাঘণ্টা কেবিনের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বিমানবন্দর স্টেশনে ডিআইজি নেমে গেলে কেবিনের নির্ধারিত আসন ফিরে পান তিনি।

শনিবার (২০ জুলাই) ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. শামসুদ্দিন শামস ওই নারী যাত্রীর কেবিন জুড়ে বসেছিলেন। এ সময় সেখানে ডিআইজির প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুশো বণিক।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সত্যতা জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওসি রুশো বণিক এ ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ওই নারীকে অন্য সিটে বসতে বলা হয়। ডিআইজি স্যার এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত গিয়েছিলেন।’

কেন একজন যাত্রীর আসন ডিআইজি দখল করে বসবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, ‘ডিআইজি স্যারের তো পাস আছে।’

এ আসন তো একজন নারী যাত্রীর জন্য বরাদ্দ ছিল— এমন কথার পর আর কোনো উত্তর দেননি রেলওয়ে থানা পুলিশের ওই ওসি।

এদিকে এ বিষয়ে ডিআইজি শামসুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘এয়ারপোর্ট গিয়ে তো আমি নেমে পড়েছিলাম। এরপর তো ওনারা ওনাদের ওখানে বসেছেন।’

একজন যাত্রীর নির্ধারিত সিটে কীভাবে বসলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসনটি খালি ছিল, তাই বসেছি।’ এরপর বিরক্তি প্রকাশ করে ফোন লাইন কেটে দেন ডিআইজি শামসুদ্দিন।

রেলযাত্রী ওই নারীর অভিযোগ, ‘পুলিশ কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের কারণে তিনি কমলাপুর স্টেশন থেকে এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন। ডিআইজি শামসুদ্দিন টিকিটবিহীন ছিলেন এবং পুলিশ তদারকিতে কেবিন জুড়ে ছিলেন। আমি বারবার অনুরোধ করার পরও তারা আমার কথায় কর্ণপাত করেননি।’

ট্রেনে পুলিশ গেলে তাদের কি টিকিট লাগে না? এমন প্রশ্নের জবাবে রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সবার টিকিট লাগবে। টিকিট ছাড়া কেউই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন না। এমনকি আমার বেলায়ও একই নিয়ম, আমি কোথাও যেতে চাইলে অন্য যাত্রীর মতো টিকিট কেটে আমাকে নির্ধারিত আসন নিতে হবে। পুলিশের বেলায়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য।’

এর আগে গত মাসেও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ঢাকা থেকে রিজেন্ট এয়ারের উড়োজাহাজে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের নির্ধারিত বিজনেস ক্লাস সিটে বসেছিলেন।

পরে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এ নিয়ে অভিযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি জেনে রিজেন্ট এয়ার কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করে। পরে ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল রিজেন্ট এয়ার কর্তৃপক্ষ।

সারাবাংলা/এসএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন