বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক ভাবনা ও কিছু কথা

জুলাই ২২, ২০১৯ | ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

ডেঙ্গু আতঙ্কে রয়েছে দেশবাসী। শঙ্কা এতটাই প্রকট যে, জ্বর হলেই ডাক্তারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। কোনো কোনো রোগীর জন্য প্রতি মুহূর্তেই প্রয়োজন পড়ছে রক্ত। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশু-বৃদ্ধ কেউই। দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু মহামারি রূপ নিতে বাকি নেই। আদালত এও বলেছে, মশা মারতে আমাদের রুল দিতে হয়, বিশ্বে এমন নজির নেই। অবস্থা কতটা ভয়বহ এতেই তা স্পষ্ট। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২১ থেকে ২২। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা পাঁচ।

যখন ডেঙ্গুর এই অবস্থা তখন ঢাকার দুই মেয়র খবরের পাতায় শিরোনাম হবেন বলে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে! কখনও আক্রান্ত কারও বাসায় ফল নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কখনওবা বলছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশা নিধন করবেন। অবশ্য তাদের কোথাও মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করতে দেখা যায়নি। অবশ্য জোর গলায় এক মেয়র বলে বসেছেন, এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই হয়নি! তারা কোনো হাসপাতালে গিয়েছেন কী না, তাদের পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছে কী না- তা আমার জানা নেই। এমনটি যদি ঘটত তাহলে তারা হয়তো প্রচারের নেশায় শুধু বক্তব্যের ভেলকি দেখাতেন না। অবশ্য মশার যন্ত্রণা টের পেয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী। শুধু ভয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাজানো বাগান ছেড়ে অর্থমন্ত্রণালয়েই অফিস করার কথাও বলেছেন তিনি। যদি এই হয় সরকারের একজন মন্ত্রীর অবস্থা, তাহলে সাধারণের শঙ্কা ভাষায় প্রকাশ করা বোকামি বৈকি।

ডেঙ্গুতো আছেই। আরেক শঙ্কার নাম ছেলেধরা! গুজবে মেতেছে দেশ। ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে দেওয়া গুজবটির প্রভাব পড়েছে সমাজে। পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে- এমন গুজব সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার কিছুদিন পরই নেত্রকোনায় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি শিশুর কাটা মাথা নিয়ে ধরা পরা এক ব্যক্তিকে গণধোলাই দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যদিয়ে একটি পক্ষ ছেলেধরা যে সত্যি সেটাই বুঝাতে চেয়েছিল। বাস্তবেও তাই হলো। বাড্ডায় এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। অথচ তিনি ওই স্কুলে গিয়েছিলেন তার শিশুকে ওই স্কুলে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে। একই অবস্থা ঘটছে সারাদেশে। বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। তবে পুলিশ সতর্ক হয়েছে। সারাদেশে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। সন্দেহ হলে নিকটস্থ থানা বা ৯৯৯-এ কল দিতে বলা হয়েছে। চিলের পেছনে ছুটতে থাকা মানুষ এখন কিছুটা সর্তক হবে বলেই প্রত্যাশা।

শঙ্কা হয়ে নতুন আরেক গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে গুজব ছড়ানো হয়েছে আগামী তিন দিন বিদ্যুৎ থাকবে না। ময়মনসিংহের গফরগাঁও এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছে বিষয়টি গুজব। স্থানীয়দের বরাতে গাজীপুরেও একই রকম গুজব ছাড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ একটি মহল প্রতিনিয়তই গুজব ছড়িয়ে চলছে। সরকার নাকি গুজব প্রতিরোধে অনলাইন যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছে। আলাদা আলাদা কন্টেন্টও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। অথচ এখন পর্যন্ত অনলাইনের কোনো গুজব সক্রিয়ভাবে সরকারকে প্রতিরোধ করতে দেখা যায়নি। মনেও হয়নি সরকার এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল দেশ। ট্রাম্পের কাছে নালিশ করায় তার বিরুদ্ধে কেউ কেউ রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও করতে চেয়েছিলেন। প্রতিদিনই প্রতিবাদ জানাচ্ছে কোনো না কোনো সংগঠন। শুধু প্রিয়ার দোষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও গালমন্দ করছে কোনো কোনো অতিপ্রতিক্রিয়াশীল। এক ধাপ এগিয়ে কেউ কেউ প্রিয়ার বাসা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। প্রিয়া অসত্য বলেছে সত্য। কিন্তু মাইনরেটি শব্দটির মধ্যেই তো নির্যাতন লুকিয়ে। প্রিয়ার বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের যেমন গন্ধ পাওয়া যায়, আবার এর পেছনে যে আন্তর্জাতিক চক্র নেই তাও বলা যায় না। বলা হচ্ছে সর্বত্রই এখন ভাসছে লিকুইড মানি। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অর্থ। চলছে দেশে বিদেশে অপ্রপচারও।

পরিস্থিতি এমনও নয় যে- সরকার খুব ‘ভালো’ করছে। অর্থনৈতিক নানা সূচকে যেমন উত্থান, তেমনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে দূরাবস্থায়। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল ও রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চললেও ভালো নেই মানুষ। সাধারণ কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায় না তারা সুখে আছে। বরং প্রতিনিয়তই নানা অভিযোগ। রাস্তাঘাটের প্রসব বেদনা এখনও শেষ হয়নি। শহরও হয়নি পরিচ্ছন্ন। দুর্নীতিও যে কমেছে তা বলা যাবে না। বরং মতাদর্শের লোকেরাই এখন বিরূপ আচরণ করছে সরকারের প্রতি। কেবলমাত্র যারা পাওয়ার এক্সারসাইজ করছেন- বলতে শোনা যায়, ভালো আছেন তারাই। আন্তর্জাতিকভাবেও যে খুব একটা ভালো আছি তা নয়। রোহিঙ্গা সঙ্কট তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। চীনের বিনিয়োগ নির্ভরতায় ভারত ক্ষুব্ধ বলেও কেউ কেউ বলে থাকেন। আমেরিকাও চায় আধিপত্য। মিয়ানমারের একটি অংশ তো বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়ার লোভও দেখিয়েছে তারা। নতুন করে পেয়েছে প্রিয়ার নালিশও। তবে সার্বিকভাবে স্থিতাবস্থায় রাশিয়া।

এই যখন অবস্থা, তখন ভালো করছেন না মন্ত্রীরাও। সুস্থ হয়ে এসে সেতুমন্ত্রীকে অসুস্থের মতো কথা বলতে দেখা গেছে। অর্থমন্ত্রীও শ’তে পাবে ১০। কৃষি, খাদ্য এবং দুর্যোগও ভালো নেই। বলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাতেই এত অবক্ষয়। সরকারের উচিত হবে কিছু মন্ত্রী এমপি এবং মেয়রদের সরিয়ে দেওয়া এবং ক্যান্সার দূর করতে দুর্নীতিকে উপড়ে ফেলা। এছাড়া উন্নয়নের তকমায় সঠিক উন্নয়নের পথে চলা। এবং সতর্কতায় হোক সেই পথচলা।

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন