বৃহস্পতিবার ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গুতে মারা গেল ৩৪ দিনের শিশু

জুলাই ২৩, ২০১৯ | ৪:২৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জন্মের পর থেকেই ছেলেটা আমার পুরোপুরি সুস্থ ছিল। এমনকি গেল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাবুসহ ফেইসবুকে যখন পরিবারের চারজনের একটা ছবি প্রোফাইল পিকচার আপলোড হিসেবে আপলোড করলাম তখনও সে সুস্থ। আমরা ভাবতেই পারিনি ওর ডেঙ্গু। কারণ কোন লক্ষণই ছিল না। শুক্রবার দুপুরে ডেঙ্গু ধরা পড়ল। শনিবার সকালেই মারা গেল আমার ছোট্ট মুসা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৩ জুলাই) সারাবাংলার কাছে কথাগুলো বলছিলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৪ দিনের শিশুর মা সানজীদা আলম আঁখি ।

পেশায় নৃত্যশিল্পী আঁখি বলেন, শুক্রবার দুপুরে বাবুর শরীরটা হালকা গরম মনে হচ্ছিল। ফার্মগেটের মনিপুরিপাড়ায় আমার বাসা। বাবুকে নিয়ে যাই মগবাজার আদ দ্বীন হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক জানালেন বাবুর শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি। ভয়ের কিছু নেই। জ্বর কমাতে নাপা দিলেন। কিন্তু আমিই ডাক্তারকে বলি ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে। এরপর বিকেলেই জানলাম বাবুর ডেঙ্গু। চিকিৎসকরা এনআইসিইউতে নিতে বললেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর থেকে পুরো শহরের অনেকগুলো হাসপাতাল ঘুরেছি। কোথাও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) একটা সিটও ফাঁকা পাইনি। প্রথমে যাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তারা জানালেন এতো ছোট শিশুর ডেঙ্গুর চিকিৎসা সেখানে নেই। এরপর আরও কয়েকটা হাসপাতাল ঘুরি। কোথায় গেলে বাবুর চিকিৎসা পাব বুঝতেই পারছিলাম না। পরে অনেক রাতে সিট পাই বনশ্রীর আল রাজী হাসপাতালের পিআইসিউতে। তখন আমার বাচ্চার প্লেটলেট কমে হয়েছে ২৭ হাজার। চিকিৎসকরা তখন থেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আইসিইউতে ওর চিকিৎসা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না।

আঁখি বলেন, আমরা খুব সচেতন ছিলাম। দিনরাত বাসায় মশারি ব্যবহার করতাম। বাসায় অন্য কারও জ্বরও ছিলনা। সব থেকে বড় কথা বাবুর খাওয়া দাওয়া, মুভমেন্ট সবই খুব স্বাভাবিক ছিল। ঠিকমত বুকের দুধ খাচ্ছিল, পায়খানা-পেশাব স্বাভাবিক ছিল। আমরা ওর আকিকা করলাম। ছেলের নাম রাখলাম- মুসা মাহমুদ।

সানজীদা আলম আঁখি বলেন, কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কি করব? সবাই বলছেন, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। কিন্তু আমি সবাইকে বলব, খুব সচেতন হয়ে যান। আমি নিজেও খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমার আরও একটি মেয়ে আছে। সে তো স্কুলে যায়।

কিভাবে ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচাব? নিজেদেরও তো স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করতে হবে। আমার মনিপুরিপাড়ার বাসা ও এর আশপাশটা আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রেখেছি। তারপরও কোথা থেকে এডিস মশা কামড়ালো আমার বাচ্চাকে জানিনা, বলেন আঁখি ।

সারাবাংলা/জেডএফ 

আরও পড়ুন: ‘বোঝাই যাচ্ছে না ডেঙ্গু’

 

বিজ্ঞাপন
Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন