বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দেশের গাড়িগুলোতে রঙ নেই, লুকিং গ্লাস নেই: হাইকোর্ট

জুলাই ২৩, ২০১৯ | ৪:৪৬ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিদেশের সঙ্গে তুলনা করে দেশের গাড়িগুলোর অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেন, ‘বিদেশের গাড়িগুলো কত সুন্দর, কোনো দাগ নেই। অথচ আমাদের দেশে গাড়িগুলোতে লুকিং গ্লাস নেই, হেডলাইট নেই, রঙ নেই। গাড়ির সারা গায়ে দাগ।’

ফিটনেসবিহীন গাড়ি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন দাখিলের পর মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি গাড়ি দুই মাসের মধ্যে ফিটনেস নবায়ন করতে নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের (সোমবার) মধ্যে এটি শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে বিআরটিএ কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দুই মাসের মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সনদ নিতে হবে: হাইকোর্ট

বিজ্ঞাপন

আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ঠিক করে দিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক। বিআরটিএ এর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম।

এর আগে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৬১ হাজার ১১৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০, রংপুর বিভাগে ৬ হাজার ৫৬৮, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫ এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৮টি গাড়ি ফিটনেসবিহীন রয়েছে।

তখন বিআরটিএ’র আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে আদালত বলেন, আপনাদের নাকের ডগায় এতো গাড়ি ফিনটেসবিহীনভাবে কিভাবে চলছে। আপনারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না?

জবাবে আইনজীবী বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিআরটিএ ৩৯ হাজার ৮৩৭টি মামলা করেছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২ টাকা। ডাম্পিং করা হয়েছে ২১৪টি গাড়ী এবং ৭২৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিআরটিএ একটি ভেহিকল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) মিরপুরে স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় একটি করে স্থাপন করার কথাও জানান তিনি। আদালত বলেন, বিদেশে গাড়িগুলো কত সুন্দর। কোনো দাগ নেই। আর আমাদের গাড়িগুলোর লুকিং গ্লাস নেই, হেডলাইট নেই, রঙ নেই।

জবাবে আইনজীবী বলেন, প্রাইভেট গাড়িগুলো ঠিক আছে। কিন্তু পাবলিকগাড়িগুলো দুর্ঘটনায় পড়ার পর আর ঠিক করা হয় না।

এরপর আদালত বলেন, আমরা দুই মাস সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে আপনার পত্রিকায়, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিবেন এসব গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করার জন্য। এরপর ১৫ অক্টোবরের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিবেন। ওই দিন পরবর্তী শুনানি হবে। যেসব গাড়ি দুই মাসের মধ্যে নবায়ন করা হবে না, পরে তাদের রাস্তায় চলতে দেবো না। আমরা বিষয়টি স্ট্রিকলি (শক্তভাবে) দেখবো। আমরা কারো পক্ষে বিপক্ষে নই।

গত ২৪ জুন আদালত ঢাকাসহ সারাদেশে ফিটনেসবিহীন তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। তারই আলোকে বিআরটিএ আজকে এ প্রতিবেদন দাখিল করে।

এর আগে গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি সংক্রান্ত দৈনিক ডেইলি স্টার গত ২৩ মার্চ একটি প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। এরপর ওইদিন আদালত রুলসহ আদেশ দেন।

সারাবাংলা/এজেডকে/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন