বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ঘরেই বানান প্রকৃতিবান্ধব কীটনাশক

জুলাই ২৫, ২০১৯ | ২:৩৩ অপরাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

আজকাল প্রায় সব বাড়িতেই কিছু না কিছু গাছ থাকে। ফল, ফুল বা পাতাবাহার জাতীয় গাছই দেখা যায় সাধারণত। অনেকে আবার বারান্দা বা ছাদে জায়গা থাকলে শাক বা সবজিও চাষ করেন। এসব গাছে বাজার থেকে কেনা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন প্রকৃতিবান্ধব কীটনাশক। এতে আমাদের চারপাশে প্রকৃতি থাকবে নির্মল ও সুন্দর।

বিজ্ঞাপন

আসুন দেখে নেই এমন ৭ রকমের কীটনাশক বানানোর প্রক্রিয়া।

১ তেলের কীটনাশক স্প্রে

যেকোন ভেজিটেবল অয়েলের সাথে মাইল্ড বা অল্প মাত্রার ক্ষার আছে এমন সাবান যোগ করে কীটনাশক বানানো যায়। ১ কাপ ভেজিটেবল অয়েল আর ১ টেবিল চামচ সাবান (লিকুইড সাবান) মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন।

বিজ্ঞাপন

এরপর ২ চা চামচ তেলের মিশ্রণ ৪ কাপ পানির সাথে মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিয়ে স্প্রে বোতল ব্যবহার করে গাছে ছেটান। ছোট ছোট পোকা দূর করবে এই কীটনাশক। গাছের পাতা যে পোর বা ছোট ছোট ছিদ্রের সাহায্যে শ্বাস নেয়, সেগুলো বন্ধ করে রাখে কিছু ক্ষুদ্র আকারের পোকা। তেল ও সাবানের মিশ্রণে আটকা পড়ে অস্বস্তিতে ভুগে পাতা ছেড়ে পালাবে এসব পোকা।

২ সাবানের কীটনাশক

সাবান দিয়ে সহজেই কীটনাশক বানানো যায়। নানা রকম মাইট, হোয়াইটফ্লাই, অ্যাফিড ও গুবরে পোকার মতো ছোট ছোট পোকা দমনে এই স্প্রে দারুণ কার্যকরী।

দেড় চা চামচ মাইল্ড বা অল্প মাত্রার ক্ষার আছে এমন লিকুইড সাবানের সাথে চার কাপ পানি মেশাতে হবে। গাছের আক্রান্ত অংশে সরাসরি স্প্রে করুন। মনে রাখা ভালো, তীব্র রোদের মধ্যে না ব্যবহার করে সন্ধ্যার পর বা ভোরে এই স্প্রে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

৩ নিম তেল

নিম গাছের বীজের তেল কীটনাশক হিসেবে দারুণ কার্যকরী। ডিম, লাভা ও বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার সব পর্যায়েই পোকামাকড় দমন করতে সক্ষম এই তেল। যেসব পোকা গাছের পাতা ও ডালপালা খেয়ে জীবন ধারণ করে তাদের মারতে ব্যবহার করুন এই তেল। পোষাপ্রাণী, মাছ বা অন্য কোন প্রাণীর কোনরকম ক্ষতি করে না এই তেল।

২ চা চামচ নিম তেলের সাথে ১ চা চমচ মাইল্ড লিকুইড সাবান ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে মেশান। এরপর চার কাপ পানির সাথে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করুন।

৪ রসুন তেল

রসুনের তীব্র গন্ধ গাছের পোকামাকড় দূর করতে সক্ষম। দুটো বড় রসুন অল্প পানি দিয়ে মিহি করে বেটে নিন বা ব্লেন্ডারে পেস্ট করুন। আবার এতে চার কাপ পানি দিয়ে সারারাত রেখে দিন।

সকালে ছেঁকে নিয়ে এতে আধা কাপ ভেজিটেবল অয়েল ( না দিলেও চলে), ১ চা চামচ মাইল্ড লিকুইড সাবান, আর অল্প পানি মিশিয়ে ঝাকিয়ে নিন। গাছে দেওয়ার সময় ১ কাপ রসুনের মিশ্রণ ৪ কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করুন।

৫ মরিচ স্প্রে

কাঁচা মরিচ বাটা বা শুকনো মরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করে বানিয়ে নিতে পারেন মরিচ স্প্রে। ৪ কাপ পানির মধ্যে ১ টেবিল চামচ কাঁচা বা শুকনো মরিচের গুঁড়ো আর কয়েক ফোঁটা মাইল্ড লিকুইড সাবান দিয়ে ঝাঁকিয়ে মিশ্রণ বানান। তারপর সরাসরি আক্রান্ত গাছে স্প্রে করুন।

অথবা আধা কাপ কাঁচা বা শুকনো মরিচ ১ কাপ পানি দিয়ে মিহি করে বেঁটে বা ব্লেন্ড করে নিন। এরপর চার কাপ পানি দিয়ে জ্বাল দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। এবার এতে কয়েক ফোঁটা মাইল্ড লিকুইড সাবান দিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিয়ে গাছে স্প্রে করুন।

৬ মশলাদার পানি (রসুন, পেঁয়াজ আর কেয়ান পিপারের স্প্রে)

আমাদের সবার রান্নাঘরে সহজেই মিলবে এমন মশলা দিয়েও বানানো যায় কীটনাশক। একটা আস্ত রসুন, একটা ছোট পেঁয়াজ আর ১ চা চামচ কেয়ান পিপার (সুপার মার্কেটে মিলবে) একসাথে বেঁটে বা ব্লেন্ড করে এক ঘন্টা রেখে দিন।

মিশ্রণটি ছেঁকে তার সঙ্গে ১ টেবিলচামচ মাইল্ড লিকুইড সোপ মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। আক্রান্ত পাতার দুই পাশেই স্প্রে করুন এই কীটনাশক।

৭ টমেটো পাতার কীটনাশক

এই পাতায় টোমাটাইন নামে একধরণের অ্যালকালয়েড থাকে যা অ্যাফিডসহ অন্যান্য কিছু ছোট পোকা দমন করে। ২ কাপ তাজা টমেটো পাতা কুচি করে ৪ কাপ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মিশ্রণটা ছেঁকে নিয়ে পানিটা সরাসরি গাছে স্প্রে করুন।

সারাবাংলা/আরএফ/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন