সোমবার ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ঠোঁটকাটা স্বভাবের কারণে আমি কাজ বেশি পাই: পিয়া জান্নাতুল

জুলাই ২৭, ২০১৯ | ৫:০৬ অপরাহ্ণ

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ

কয়েক দিন হলো ইংল্যান্ড থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শেষে দেশে ফিরেছে পিয়া জান্নাতুল। ফেরার সময় প্রাচীনকালের আফগান কাবুলিওয়ালার মতো ঝুলি ভরেছেন তিনি। সেই ঝুলি ভর্তি কেবল অভিজ্ঞতা আর সুখানুভূতি।

এদিকে দেশ ফিরেই তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নতুন সিনেমায়। ‘স্বপ্নবাজি’ নামের ছবিটি পরিচালনা করবেন হালের জনপ্রিয় পরিচালক রায়হান রাফি। ফ্যাশন দুনিয়ার নানা গল্পকে উপজীব্য করে নির্মিত হতে চলেছে ছবিটি।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপস্থাপনা, নতুন সিনেমা চুক্তিসহ ক্যারিয়ারের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন সারাবাংলার সঙ্গে। কথায় কথায় তিনি তাকে নিয়ে নানা সমালোচনার বিষয়েও মুখ খোলেন।


বিশ্বকাপ ক্রিকেট মিশন শেষে দেশে ফিরেছেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথমবারের মতো মাঠ থেকে পুরো বিশ্বকাপ উপস্থাপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল ?
অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেট মাঠ থেকে উপস্থাপনা করেছি। সেখানে অনেক কিংবদন্তির সাথে কাজ করেছি। অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে তাদের সাথে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বলতে পারেন, উপস্থাপনার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ছিল আমার জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের প্লাটফর্ম।

বিজ্ঞাপন

নানা দেশের অনেক জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন সেখানে। বাংলাদেশি উপস্থাপক হিসেবে আপনাকে তারা কিভাবে মূল্যায়ন করেছেন?
বাংলাদেশে ক্রিকেট উপস্থাপক সেরকমভাবে কেউ নেই। শুধুমাত্র আতাহার আলী খান ধারাবর্ণনায় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এই জায়গাটা ফাঁকা রয়েছে। সেখানে অনেকে আমাকে বলেছেন, এই সুযোগটা কাজে লাগাতে। উপস্থাপনা নিয়মিত চালিয়ে যেতে বলেছেন। আমার উপস্থাপনা দেখে তাদের আন্তার্জাতিক মানের মনে হয়েছে।

তো ক্রিকেট উপস্থাপনায় নিয়মিত হবেন ?
কোন কাজটা করব কি করব না—সে বিষয়ে আমি আগে থেকে ভাবি না। আমি সবসময় সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছি। চলার চেষ্টা করি। যখন যে কাজ হাতে নিই সেটা মন দিয়ে করি। কাজ করার বিষয়টি নির্ভর করে প্রস্তাব পাওয়ার ওপর। তারপর সেখানে পারিশ্রমিকের বিষয় আছে। আবার শিডিউলের বিষয় থাকে। সব যদি ব্যাটে বলে মিলে যায় তাহলে কাজ করতে আপত্তি নেই।

দেশের ফিরেই তো ‘স্বপ্নবাজি’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন। এই ছবির সাথে যুক্ত হলেন কিভাবে ?
এই ছবিটি নিয়ে প্রযোজক পিয়াল হোসাইনের সাথে শুরু থেকে কথা হচ্ছিল। প্রযোজক প্রথমেই বলেছিলেন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমাটিতে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারছেন না। আমি আসলে ভাবিনি এই ছবিতে অভিনয় করব।

কেনো?
আমি গত কয়েক বছর ধরে অনেক সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু কোনোটাই আমার পছন্দের সাথে খাপ খাচ্ছিল না। হতে পারে সেটা পরিচালক, সহশিল্পী কিংবা গল্প। আমি ভালো কাজ করতে চাই। আর ভালো কাজ করতে আমি প্রয়োজনে পারিশ্রমিক কমাতে পারব, কিন্তু ছবির গল্প, সহশিল্পী, পরিচালক নিয়ে কোনো ছাড় দিতে পারব না। ‘স্বপ্নবাজি’ ছবির গল্পটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। নতুন কিছু আছে। ছবির পরিচালকও মেধাবী। তাই সবমিলিয়ে রাজি হয়ে গেলাম।

ফ্যাশন দুনিয়াকে উপজীব্য করে ছবিটি নির্মিত হতে যাচ্ছে। আপনি নিজেও একজন ফ্যাশন দুনিয়ার মানুষ। তাহলে কি বলতে পারি দুইয়ে দুইয়ে মিলে চার হয়ে গেল?
এটা সেরকম কিছু না। ছবির গল্প বলা আমার বারণ। তবুও বলছি, এই ছবিতে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অনেক বিষয় মিলে যাবে। আবার অনেক কিছু অমিলও থাকবে। ছবিতে আমি অভিনয় করলেও কাহিনীতে আমার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো মিল পাওয়া যাবে না।

মডেলিং, নাটক, সিনেমা ও উপস্থাপনা—পিয়া জান্নাতুলের কাছে প্রিয় জায়গা কোনটি?
চারটি জায়গাই আমার কাছে প্রিয়। প্রত্যেকটি কাজকে আমি ভালোবাসি। ভালোবাসি বলেই কাজগুলো করি। ভালোবাসা না থাকলে করতাম না। খেয়াল করলে দেখবেন, আমি সব মানসম্পন্ন কাজ করি। মানহীন কোনো কাজ আমি প্রচুর টাকা পেলেও করি না। অনেক ছোট ছোট কাজের প্রস্তাব পাই আমি। কিন্তু মান না থাকায় সেসব করি না। এক কথায়, আমি কোয়ালিটিতে বিশ্বাস করি।

কোন কাজটাকে কঠিন বলে মনে হয় আপনার কাছে?
এখন মডেলিং খুব একটা কঠিন লাগে না। যদিও র‌্যাম্পে হাঁটার সময় প্রথম কয়েক সেকেন্ড নার্ভাস থাকি। তারপর সব ঠিক হয়ে যায়। আর হ্যাঁ, উপস্থাপনা কঠিন মনে হয়। বিশেষ করে লাইভে থাকলে। লাইভে একটি ভুল করলে সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়, ট্রল হয়। আমি ট্রলের সম্মুখীনও হয়েছি।

ট্রল কী আপনার মন খারাপ করে দেয়?
কিছু মানুষ বসেই থাকে ট্রল করার জন্য। আমি জানুয়ারিতে বিপিএল শেষ হওয়ার পর বলেছিলাম, আপনারা আমাকে নিয়ে ট্রল করতে থাকবেন আর পাঁচ বছর পর দেখবেন আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনা করছি। আমার সৌভাগ্য যে, পাঁচ বছর লাগেনি। তার আগেই আমি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মতো আন্তজার্তিক ইভেন্ট উপস্থাপনা করেছি।

যারা এসব করে তাদের কোনোভাবেই এটা করা থেকে বিরত থাকবে না। তারা করতে থাকুক। তাদের ট্রল আমাকে আরও সামনে এগিয় নিয়ে যাবে। ট্রলকারীদের একটি কথাই বলব, ট্রল না করে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। এতে করে আমরা ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব। এধরনের সমালোচনা আমার ভালো লাগে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলা ভালো না।

ইন্ডাস্ট্রিতে আপনাকে ঠোঁটকাটা স্বভাবের মেয়ে বলা হয়। আপনার কী মনে হয় এই স্বভাবটার কারণে কাজ পেতে সমস্যা হয়?
বলে না! (হা হা হা)। একটা কথা বলি ঠোঁটকাটা স্বভাবের মেয়ে হওয়ার কারণে আমি কাজ বেশি পাই। কারণ, যারা আমাকে কাজে নেয় তারা জানেন আমার ভেতর এই স্বভাবটা আছে। তারা এটাও জানেন, আমি কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঠিক সময়ে সেটে যাই। চরিত্র অনুযায়ি অভিনয় করি।

দেখুন, জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ঠোঁটকাটা স্বভাবের হওয়া প্রয়োজন। নতুবা, অনেকে অনেক রকম কথা বলে পার পেয়ে যাবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারলে ইন্ডাস্ট্রিতে টেকা কষ্টকর। শুধু ইন্ডাস্ট্রি না; কেউ অন্যায় বা অসত্য গুঞ্জন ছড়ালে আমি মুখের ওপর প্রতিবাদ করি।

সারাবাংলা/আরএসও/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন