শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সব নারীর জন্য স্যানিটারি প্যাড চাই’

জুলাই ২৮, ২০১৯ | ২:১৮ অপরাহ্ণ

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রয়োজনীয়তা ও সব নারীর জন্য নিরাপদ ন্যাপকিন নিশ্চিত করতে রাজধানীতে হয়ে গেল এক মুক্ত আলোচনা।

শনিবার (২৭ জুলাই) ‘সব নারীর জন্য স্যানিটারি প্যাড চাই’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে।মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম (নাসাসু)।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদিশা হক, আদিবাসী নারী অধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান, চা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা খাইরুন আক্তার, অনন্যা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক লাইলী বেগম, স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী ডা. লেলিন চৌধুরী, উন্নয়নকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী ফেরদৌস আরা রুমী।

স্যানিটারি প্যাড

বিজ্ঞাপন

নারীদের কাছে নিরাপদ স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার উপায় সম্পর্কে ইলিরা দেওয়ান বলেন, যেসব স্বাস্থ্যকর্মী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন তারাই গ্রামের নারীদের এই সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন। সে বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক বিদিশা হক বলেন, স্বাস্থ্য খাত এবং সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বাজারে যেসব প্যাড পাওয়া যায় সেগুলো নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, এগুলোতে যেসব জেল ও প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে ক্যান্সারের উপাদান রয়েছে। নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তাই সরকারিভাবে অর্গানিক কটন প্যাড তৈরির আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে  ক্ষতিকর প্যাড উৎপাদন বন্ধে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান এই চিকিৎসক।

চা বাগানে নারী শ্রমিকদের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্যানিটারি প্যাড বিতরণ ও ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ খাইরুন আক্তার। এর পাশাপাশি চা বাগানে রেশন কার্ডে চাল, ডাল, আটা এরকম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি স্যানিটারি প্যাড বিতরণ করারও দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার সেনসেটাইজ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই বিষয়ে ট্যাবু ভেঙ্গে ফেলতে হবে এবং কমিউনিটিকে সঙ্গে রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্যাড উৎপাদন করতে হবে।’

মুক্ত আলোচনায় সব মিলিয়ে যেসব তথ্য উঠে এসেছে এবং যেসব দাবি তোলা হয়েছে সেগুলোর আলোকে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম তাদের পরবর্তী কর্মসূচি পরিকল্পনা করবে বলে জানান নাসাসুর আহ্বায়ক মারজিয়া প্রভা। তিনি বলেন, দেশের সব নারীর কাছে যেন নিরাপদ স্যানিটারি ন্যাপকিন সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা যায় সে ধরনেই কর্মসূচিই তারা হাতে নেবেন। সেইসঙ্গে এসব দাবি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন নীতি নির্ধারকদের কাছে।

সারাবাংলা/আরএফ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন