বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘প্রেমিকার’ স্বামীকে হত্যা করে গুজব রটানোর পরিকল্পনা নস্যাৎ

জুলাই ২৮, ২০১৯ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রাজশাহী: প্রবাসী নারীর স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অপরাধে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, কাঞ্চন শিকদারকে (২২) হত্যা পরে ‘গলাকাটা’ গুজব রটানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ এ কথা জানান।

আটক যুবকরা হলেন, বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানার গোড়ফা গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৪), নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার হাসেম আলীর ছেলে সজীব (১৯), ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জ গ্রামের পারভেজ ওরফে মোশারফের ছেলে কাউসার (২০) ও পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার নলুয়াবাগী গ্রামের মজিব মৃধার ছেলে মিরাজ হোসেন (১৯)।

এদের মধ্যে রাসেল শেখ নিজেকে কাঞ্চনের প্রবাসী স্ত্রী তানিয়ার প্রেমিক বলে দাবি করেছেন। কাঞ্চন শিকদারের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার গোড়ফা গ্রামে। তার বাবার নাম জালাল শিকদার। কাঞ্চনের শ্বশুর বাড়িও একই গ্রামে।

মো. শহীদুল্লাহ বলেন, শনিবার রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে চার যুবককে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছে একটি ছুরি ও চেতনানাশক পাউডার পাওয়া গেছে। প্রবাসে থেকে তানিয়া তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে সে সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। রাসেলের মোবাইল ফোন জব্দ করার পরে মেসেঞ্জার অ্যাপ থেকে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি।

বিজ্ঞাপন

যেমন ছিল হত্যার পরিকল্পনা

তিনি জানান, পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে দুই দিন আগে কাঞ্চনকে তারা রাজশাহীতে নিয়ে আসে। তানিয়া তার স্বামীকে রাসেলের সঙ্গে রাজশাহী আসতে বলে। তারা শিরোইল এলাকার সিটি আবাসিক হোটেলে ওঠে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঞ্চনকে হত্যার উদ্দেশ্যে শনিবার রাত ১০টার দিকে তারা চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি স্টেশনের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। অজ্ঞানের চেষ্টার সময় কাঞ্চনের চিৎকারে স্থানীয়রা টের পেয়ে মিরাজ ও কাউসারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। রাত ১২টার দিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাসেল ও তার সহযোগী সজীবকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

হত্যায় সহযোগিতা করতে রাসেলের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি হয়নি। তবে রাসেল তার বন্ধুদের ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিলিং মিশনে নিয়ে আসে, বলেন মো. শহীদুল্লাহ।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সাত বছর আগে কাঞ্চনের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। তানিয়া বর্তমানে সৌদি আরবে বিউটি পার্লারে কাজ করেন। দেড় বছর পরে তার দেশে আসার কথা রয়েছে। দেড় বছর আগে যখন তানিয়ার সৌদি আরবে যান তখন সহযোগিতা করে রাসেল। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দেশে ফেরার আগেই পথ পরিষ্কার করতে কাঞ্চনকে হত্যার পরিকল্পনা করে তানিয়া।

সারাবাংলা/এটি

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন