শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ধ্বংস হচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল, জনজীবন হুমকিতে

জুলাই ২৯, ২০১৯ | ২:২৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কৃষি ফসল চাষের কারণে ধবংস হয়ে যাচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত হরমোন ও তরল সার ব্যবহারের ফলে সেখানকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে বন মামলাসহ নানা কারণে সেখানকার অধিবাসীরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।

‘দ্য ভ্যানিশিং ফরেস্ট অ্যান্ড হার পিপল অ্যাগোনি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। সোমবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে মধুপুর নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে করেন সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক ফিলিপ গাইন। তার গবেষণায়ও উঠে এসছে আধিবাসীদের বঞ্চনা ও পরিবেশ বিপর্য়য়ে চিত্র।

পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয় ছাড়া মধুপুর বন রক্ষাসহ কিছুই হবে না। কেননা জমি যেহেতু দামি জিনিস, সেহেতু সবাই সুশাসনের অভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবশালীরা এতে হস্তক্ষেপ করবেই। মধুপুর এলাকার সমস্যা সমাধানে সরকারের উচিত একটি নীতিমালা করা। সেই সঙ্গে যেহেতু সুশাসনের অভাবে নীতিমালা কার্যকর হয় না, তাই আইনও করতে হবে। তাছাড়া সৎ মানুষের নেতৃত্বে একটি কমিশনও গঠন করা যেতে পারে।

সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মধুপুরের বনাঞ্চল রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। সেখানে কৃষির নামে পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মধুপুর এলাকায় তিন ধরণের স্বার্থ রয়েছে— বন সংরক্ষণ, কৃষি ও আদিবাসীদের চাহিদা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ। এসব স্বার্থ সম্পর্কে আগে বুঝতে হবে। তারপর আলোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ কেউই সমর্থন করে না। তাই দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক কমাতে হবে। আদিবাসীদের সমস্যাগুলো দালিলিকভাবে যদি সমাধান করা না যায়, তাহলে এসডিজির দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও সমাধান করা জরুরি। কেননা এসডিজির মূল কথা হলো কাউকে পেছনে ফেলা যাবে না।

গোলটেবিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধুপুর গ্রামের গারোরা সেখানকার বাঙালিদের চেয়ে শিক্ষায় অনেক এগিয়ে। ছয় বছর বা এর বেশি বয়সী গারোদের সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বিপরীতে একই বয়সী বাঙালিদের সাক্ষরতার হার ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। গড়ে  এই গ্রামের ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ মানুষ কখনোই স্কুলে যায়নি। অন্যদিকে, স্কুলে যায়নি এমন বাঙালির সংখ্যা ৩৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধুপুরের ৪৪টি গ্রামের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ১২ শতাংশ পরিবারের শৌচাগার নেই। বাকিদের মধ্যে ৮৯ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহার  করে। এর মধ্যে বাঙালি ৮৮ দশমিক শূন্য শতাংশ, গারো ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকিরা কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করে। গ্রামের মোট ৫৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বাঙালি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, গারোদের মধ্যে এই হার ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ভূমির দখল ও মালিকানার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৩ শতাংশ বাঙালি পরিবার ও ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ গারো পরিবারের বসতবাড়ির দলিল আছে। আর আবাদি উঁচু জমির মধ্যে গারোদের ২ দশমিক ৬১ শতাংশ পরিবারের ও বাঙালি ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ পরিবারের দলিল আছে। নিচু জমিতে এর হার বাঙালি পরিবারে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গারো পরিবারে ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের বসতবাড়ির শুধু প্রথাগত মালিকানা আছে।

গোলটেবিলে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং, জয়েন শাহী আদিবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ইউজিন নকরেক, গারো লেখক থিওফিল নকরেকসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন