বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জলে ভাসা হাট

আগস্ট ১, ২০১৯ | ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ

পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির পেয়ারা হাটের কথা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। পানিতে ভাসমান এই হাটের সুখ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। সেই হাটেরই ছবি তুলেছেন মো. নয়ন ইসলাম

বিজ্ঞাপন

নদীর ঘোলা পানির বুক চিড়ে চলছে ছোট্ট এক ডিঙ্গি নৌকা। মাথায় বসে বৈঠা বাইছেন মাঝবয়সী এক পুরুষ। তার সামনে নৌকার পাটাতনের ওপর রাখা দুইটি ঝুড়ি, তা যেন সবুজে ভর্তি। সামনেই নৌকার গলুই বাদে বাকি অংশটুকুর পুরোটাই ভর্তি ঠিক তেমনই সবুজে। খুব ঠাহর করে দেখলে তবেই বোঝা যায়, নৌকাভর্তি পেয়ারা নিয়ে ছুটছেন ওই মাঝবয়সী। গন্তব্য পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি। সেখানে ভীমরুলি, কুরিয়ানা বা আটঘরের বিখ্যাত পেয়ারা হাটে উঠবে তার পেয়ারা।

বিজ্ঞাপন

ঠিক এই মৌসুমটায় জমে ওঠে পিরোজপুরের এই এলাকাটি। সবুজ বনের মধ্যে নদী, তার বুকে নৌকায় করে পেয়ারা এনে বসে যায় হাট। এ যেন ভাসমান হাট। আর পেয়ারাই এই হাটের একমাত্র পণ্য।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা অঞ্চল। পিরোজপুরে এরকম বেশকিছু হাট থাকলেও স্বরূপকাঠি উপজেলার ভীমরুলি, কুরিয়ানা ও আটঘর বিখ্যাত। দুই শতাধিক বছরের পুরনো এই ভাসমান পেয়ারা বাজারটি গড়ে উঠেছে বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার সীমান্তবর্তী এক মিলনস্থলে।

তিন জেলার ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার পরিবার পেয়ারা চাষে নিয়োজিত। ৩১ হাজার একর জমির ওপর প্রায় ৭ হাজার পেয়ারা ও আমড়া বাগান রয়েছে এই এলাকায়। এখানকার পেয়ারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

শ্রাবণের এ সময়টি পেয়ারার ভরা মৌসুম। প্রতিবছর এ মৌসুমে এলাকার বিভিন্ন শাখা খাল ও খাল তীরবর্তী স্থান ব্যবসায়ী, আড়তদার, পাইকারদের ট্রলার ও চাষিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

তবে পেয়ারা সংরক্ষণ, বিপণন, পরিবহন সংকটের কারণে ভালো ফলন হলেও কৃষকরা এর ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বর্তমানে প্রতিমণ পেয়ারা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে হিমাগার গড়ে তোলা গেলে সুফল পাবেন কৃষকরা।

তবে পেয়ারা হাটের খ্যাতি সারাদেশে, তাই ভরা বর্ষার এই মৌসুমে সারাদেশ থেকেই ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিদেশি অতিথিরাও নিয়মিত আসেন এই হাটে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন