শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী ২০১৮ সালে ১৬৮ পরিবেশবাদী খুন

আগস্ট ২, ২০১৯ | ৩:১৪ অপরাহ্ণ

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন জোরদার হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কৃষি ব্যবসা, খনন কাজ, শিল্পায়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলাও দিনকে দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের সংগঠন গ্লোবাল উইটনেস।

সংখ্যার হিসেবে ২০১৮ সালে পরিবেশবাদীদের জন্য ভয়াবহতম দেশ ছিল ফিলিপাইন। এক বছরে সেখানে খুন হন ৩০ জন পরিবেশবাদী। এনিমিস অব দ্য স্টেট শিরোনামে প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে সারা পৃথিবীতে ২০১৮ সালে প্রতি সপ্তাহে ৩ জন করে পরিবেশবাদী খুন হয়েছেন।

গ্লোবাল উইটনেস এই রিপোর্টের এক পর্যায়ে বলেছে, সবাই সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘর এবং আমাদের এই পৃথিবীর ভালোর জন্য কথা বলতে গিয়ে খুন হয়ে গেছেন।

২০১৭ সালের ২০১ জন পরিবেশবাদীর খুন হয়ে যাওয়ার পর ২০১৮ সালে এর সংখ্যা কমে গিয়ে ১৬৪ তে নেমে আসে।

বিজ্ঞাপন

যদিও পরিবেশের পক্ষে কথা বলার কারণে তাদের কথা সরকারের বিপক্ষে যাচ্ছে তাই পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, জেলে পাঠানো হচ্ছে। অনেক সময়ই কোম্পানিগুলোর অর্থনৈতিক লাভের কাছে পরিবেশের ইস্যু খুব গৌণ হয়ে যাচ্ছে। তারপর সেই আর্থিক লাভের আশায় সক্রিয় আওয়াজগুলোকে চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ায় আইন আদালতকে পুঁজির পক্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই রিপোর্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রড্রিগোর অধীনে ফিলিপাইনে এই রক্তপাতের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে গ্লোবাল উইটনেস। ২০১৬ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর মাদকের ইস্যুতে অভিযান চালান। বিভিন সংঘর্ষের সময় তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্গঘনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭ সালে ৪৮ জন পরিবেশবাদী খুনের অভিযোগ ওঠে রড্রিগো প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই খুন হয়েছেন কৃষি ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যায়। খনন কাজে বাঁধা দিতে গিয়ে হুন হয়েছেন ৪৩ জন। পানি সংক্রান্ত প্রকল্পের বিরোধীতা করতে গিয়ে ১৭ জন মারা গেছেন।

গ্লোবাল উইটনেস বলছে সারা পৃথিবীতেই পরিবেশবাদীদের দাড়ানোর জায়গা কমে যাচ্ছে। যেমন ব্রাজিলের জায়ের বোলসোনারো আদিবাসীদের সংরক্ষিত এলাকা থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্যাস এবং তেল উত্তোলনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে একমত হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যেও বিভিন্ন পরিবেশবাদী আন্দোলনের কর্মীদের সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট মামলায় ফাসানো হচ্ছে। তাদের অনেকেই যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হচ্ছেন। জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া টৌলি বলেছেন, বিশ্বের সব জায়গায়ই পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হামলা দিয়ে তাদের কে চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ তারা তাদের বাসভূমি রক্ষার জন্য আন্দোলনে নেমেছিলেন।

গ্লোবাল উইটনেসের সিনিয়র ক্যাম্পেইনার এলিস হ্যারিসন বলছেন, ধনী এবং ক্ষমতাসীনদের বাইরে গিয়ে যে মানুষগুলো ভূমি এবং পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার্থে আন্দোলন করছেন তাদের পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন কিন্তু আমাদের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য এর কোন বিকল্প নেই।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন