বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

উদ্যোক্তা নারীদের গল্প

আগস্ট ৩, ২০১৯ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা

লেদার টেকনোলজিতে পড়ার সময় ব্যবসা শুরু করেছিলেন তানিয়া ওয়াহাব। হাতে ছিল টিউশনি থেকে জমানো অল্প কিছু টাকা। টাকার পরিমাণ কম থাকলেও ইচ্ছা ও চেষ্টায় ছিল না ঘাটতি। শুরু করেছিলেন একটি সেকেন্ড হ্যান্ড মেশিন দিয়ে। আজ তানিয়া একজন সফল ব্যবসায়ী। ট্যান ও কারিগর ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

বিজ্ঞাপন

উদ্যোক্তা ও চাকরিদাতা হিসেবে তানিয়া পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও রয়েছে।

তানিয়া যখন তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলছিলেন তখন সামনে গ্যালারিতে বসেছিলেন শ’খানেক তরুণী ও আমন্ত্রিত অতিথি। পাঁচজন নারী উদ্যোক্তাকে ‘ওয়াইএসএসই নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৮’ দেওয়া উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

তানিয়া বলছিলেন, শুরুতে ভাবিনি এতদূর আসতে পারব। এখন ট্যান ও কারিগরের চামড়াজাত পণ্য যাচ্ছে দেশি-বিদেশি নানা বাজারে। ক্রেতার সন্তুষ্টির জন্য বিদেশে একটা পণ্য পাঠানোর আগে অন্তত দশবার ভাবতে হয়। একই পণ্য বারবার বানাতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে খুব সহজেই বিদেশি পণ্য ঢুকে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে ওয়াইএসএসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইউসুফ হোসাইন নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নারী উদ্যোক্তা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান। শোকের মাসে জাতির পিতাকে স্মরণ করে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মেয়েরা যেন মনের ঘোমটা খুলে ফেলে। তারা যেন তাদের মনের ইচ্ছার কথা বলে ও সেই অনুযায়ী কাজ করে। এখনো আমাদের দেশের মেয়েদের ঘরের কাজের জন্য অনেকটা সময় দিতে হয়, যা তাদের পিছিয়ে রাখে। কর্মজীবী নারীদের ঘর সামলাতে হয়। নতুনদের তৈরিতে তানিয়া ওয়াহাবের মতো উদ্যোক্তারা হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।

আতিউর রহমান বলেন, বাজেটে উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ স্টার্ট আপ ক্যাপিটালের শতকরা ১০ ভাগ বিভিন্ন নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা হলে নারীদের নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হতে পারে। বড় বড় ঋণ খেলাপিদের জন্য নারী উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে জটিলতায় পড়েন। এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, নানা বাধার পরেও মেয়েরা বসে নেই। তারা এগিয়ে এসেছে। মোট জিডিপির ৪০ শতাংশই আজ নারীর অবদান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেআইটিসি লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিইও যারা মাহবুব। কতটা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ এই পর্যন্ত এসেছেন সেই গল্প সংক্ষিপ্ত করে বললেন যারা। অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় বাবার অসুস্থতার জন্য দেশে ফিরে আসেন। বাবার ব্যবসার হাল ধরেন।

তিনি বলেন, মানুষের জন্ম কোনো না কোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। আর কাজের কোনো বয়স নেই। তাই যখন যেটা সামনে পেয়েছেন, করেছেন।

নারী উদ্যোক্তা

কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স শেষ করে বাবার আইটি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছিলেন রিজওয়ানা খান। ছোটবেলা থেকেই রিজওয়ানা ভেবেছেন তিনি ব্যবসায়ী হবেন। যেসব মেয়েরা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের উদ্দেশে তিনি রিজওয়ানা, সফল হতে চাইলে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিকল্পনা করে রাখতে হবে এবং সেই স্বপ্নের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।

গতানুগতিকতাকে ভেঙে কিভাবে মেয়েরা এগিয়ে আসতে পারে ও বিশ্বের বুকে উদাহরণ তৈরি করতে পারে তাই নিয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন- শেগুফে হোসাইন, আসিয়া নীলা ও যাইবা তাহিয়া। মোডারেটর ছিলেন চ্যানেল ২৪ এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নিজিয়া কবীর সূচনা। তাদের আলোচনায় উঠে আসে উদ্যোক্তা হওয়ার বাধা এবং চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে অতিক্রম করতে হয়।

শেগুফে হোসাইন কাজ করেন মাদরাসার মেয়েদের নিয়ে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম লিপিং বাউন্ডারিজ। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেয়েদের ইংরেজি শেখানো, আইটি প্রশিক্ষণ ও মানসিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে মাদরাসায় পড়া মেয়েরা সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ পায় না তেমন। তাদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক বাধা আসে। বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে আসি মানুষের জন্য কিছু করব বলে। পরিবার সব সময় পাশেই ছিল।

আসিয়া নীলার আইটি প্রতিষ্ঠান ‘উইমেন ইন ডিজিটাল’ শুধু রাজধানীতেই নয়, কাজ করছে দেশের নানা অঞ্চলে। তিনি বলেন, সারাবিশ্বেই মেয়েরা আইটি সেক্টরে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে আরও বেশি। অনেক সময় পরিবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারপরেও অনেকেই মনের জোরে এগিয়ে এসেছেন।

প্যানেলে উপস্থিত যাইবা তাহিয়ার প্রতিষ্ঠান ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট মুভমেন্ট বস্তির মেয়েদের মার্শাল আর্ট শেখান। অলাভজন এই প্রতিষ্ঠান চালাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হলেও সম্পূর্ণ ইচ্ছাশক্তির জোরে কাজ করে যাচ্ছেন যাইবা। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মেয়েদের মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষা শেখান যাতে তারা শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বাইরে বের হওয়ার মানসিক শক্তি পান।

দিনের প্রথম সেশনের শেষে আসেন রমনি এক্সওয়াইজেডের প্রতিষ্ঠাতা আরমিন খান। তার প্রতিষ্ঠান বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের নানারকম সৌন্দর্য চর্চার সেবা দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি তারা অনলাইনে টেইলারিংয়ের কাজও করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন