শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

অমীমাংসিত ৩ খুন ও কানাডার জঙ্গলে ২ তরুণের মরদেহ

আগস্ট ৮, ২০১৯ | ২:৩৩ অপরাহ্ণ

বিচিত্রা ডেস্ক

কানাডায় সম্প্রতি তিনটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ যার কোনো মীমাংসা করতে পারেনি। গত জুলাই মাসে নর্দার্ন কলম্বিয়ায় দুই তরুণ-তরুণীর লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। এদের একজন ছিলেন আমেরিকান তরুণী চান্না ডেজ (২৪) ও তার অস্ট্রেলীয় বয়ফ্রেন্ড লুকাস ফুলার (২৩)। তারা অবকাশযাপন করতে গিয়েছিলেন সেখান। নিজেদের গাড়ির পাশেই পড়ে ছিল গুলিবিদ্ধ মরদেহ। ২৪ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডের হদিস পায় পুলিশ।

এর কিছুদিন পরেই মিস্টার ডায়েক (৬৪) নামে এক উদ্ভিদবিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় আগের ঘটনার তিনশ মাইল দূরত্বে এক মহাসড়কে। তাকে খুন করে তার গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল হত্যাকারী।

চান্না ডেজ (২৪) ও তার অস্ট্রেলীয় বয়ফ্রেন্ড লুকাস ফুলার (২৩)

বিজ্ঞাপন

কে বা কারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত বা এসব হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ সম্পর্কে পুলিশ ছিল অন্ধকারে।

তবে এবার আসি অন্য এক গল্পে। কেম ম্যাকলিয়ড (১৯), ব্রায়ার স্রেমেগ্লেস্কি (১৮) দুই বন্ধু। যাদের বলা যায় কিশোরই। কাজ করতেন ওয়ালমার্টে। হঠাৎ পরিবারকে জানান, আলবার্টায় তারা কাজের সন্ধানে যাবেন। যেখানে তারা টাকা কামাতে পারবেন। তবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এদের আর কোনো হদিস পায়নি পরিবার। এ খবর জানানো হয় পুলিশকে।

কিছুদিন পর পুলিশের কাছে তথ্য আসে যেসব এলাকায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তারা আশেপাশে দেখা গেছে দুই বন্ধুকে। সুতরাং পুলিশ গুরুতরভাবে তদন্ত শুরু করে। ধারণা করা হয়, তারা হয়তো খুনগুলো করে ম্যানিটোবার দিকে পালিয়ে গেছেন। যেদিকে শুধুই অরণ্য ও গহীন জঙ্গল। আরও আছে বিষাক্ত সাপ, ভাল্লুকসহ ভয়ংকর প্রাণী। সেইসঙ্গে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা।

মিস্টার ডায়েক (৬৪)

পুলিশ এই তিন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আসামি করে দুই বন্ধু কেম ম্যাকলিয়ড ও ব্রায়ার স্রেমেগ্লেস্কিকে। তাদের খোঁজ চেয়ে ছবি ছাপানো হয় কানাডার বিভিন্ন স্টেটে। ম্যানিটোবার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয় দুই তরুণের কাছে থাকতে পারে আগ্নেয়াস্ত্র। পুলিশ তাদের খোঁজে গহীন জঙ্গলে অভিযান চালাতে থাকে। আকাশে হেলিকপ্টার উড়ানো হয়। বিশেষজ্ঞরা পত্রিকা ও টিভিতে বক্তব্য দিতে থাকেন ম্যানিটোবার গহীন অরণ্যে এতদিন নিখোঁজ থাকা দুই যুবকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে কি না!

তবে বুধবার (৭ আগস্ট) রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ খুঁজে পায় দুই যুবকের মৃতদেহ। পুলিশ ঘোষণা দিয়েছে, ওই দুই যুবকই নিখোঁজ কেম ম্যাকলিয়ড ও ব্রায়ার স্রেমেগ্লেস্কিকে। বাকিটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজন ময়নাতদন্তের।

কেন ধারণা করা হচ্ছে তারই হত্যাকারী?

দুই যুবকের লাশ উদ্ধারের পরও তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। যদিও অনেকে ভাবছেন তিন খুনের মামলা  অমীমাংসিতই থেকে যাবে। কারণ হত্যায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন দুই যুবক এখন মৃত।

এদিকে দুই তরুণের পরিবারও তাদের সন্তানদের সন্দেহের ঊর্ধ্বে ভাবছেন না। ব্রায়ার স্রেমেগ্লেস্কির বাবা অ্যালেন স্রেমেগ্লেস্কি বলেন, তারা দুই বন্ধু একসঙ্গে শিকারে যেত। ভিডিও গেম খেলত। সে মানসিক যাতনায় ভুগছিল।

তিনি তার সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করছেন না।

সারাবাংলা/এনএইচ

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন