শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘ডোর-টু-ডোর’ কর্মসূচির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আগস্ট ৮, ২০১৯ | ৮:২৭ অপরাহ্ণ

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দলসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ‘ডোর-টু ডোর’ কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) গণভবনে পৌঁছে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাসহ দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এমন নির্দেশ দেন তিনি। উপস্থিত একাধিক সূত্র সারাবাংলাকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা স্বাগত জানান। এর আগে লন্ডন সময় বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৬টা ৫৫ মিনিটে ওই ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, গণভবনে পৌঁছে উপস্থিত নেতাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এটাকে আমাদের চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হবে। আমরা সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। দলীয়ভাবে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ডেঙ্গু নির্মূলে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রয়োজনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একটা মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। মানুষকে বোঝাতে হবে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটার প্রাদুর্ভাব বা প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তাই এটাকে আমাদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে।’

বিজ্ঞাপন

সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে উপস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং নেতাকর্মীদের পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ডোর-টু-ডোর কাজ করার নির্দেশ দেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। ছাত্রলীগ, তোমাদেরকে পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ডোর-টু-ডোর সচেতন করতে হবে। বাকি সংগঠনগুলোকেও এসব কর্মসূচি পালন করতে হবে। কারণ মানুষকে বোঝাতে হবে, নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বিস্তার লাভ করতে পারবে না। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৮আগস্ট) দুপুরে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটির এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, চিকিৎসা শেষে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ফিরেই জানতে চেয়েছেন, ‘প্রাণঘাতী এডিস মশা প্রতিরোধে কে কী করছে।’

কাদের বলেন, ‘গণভবনে নেমে তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) প্রথম কথা হচ্ছে ডেঙ্গু। কে কী করছে, কার কী বক্তব্য? যেকোনো মূল্যে প্রাণঘাতী এডিস মশা মোকাবিলা করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিসর বাড়াতে হবে। তিনি যখন লন্ডনে ছিলেন চিকিৎসার জন্য তখনও প্রতিদিন ফোন করে করে খোঁজ রেখেছেন। সরকার, দুই সিটি করপোরেশন আমরা কেউই ডেঙ্গুকে হালকাভাবে নিইনি। চিকিৎসকদের দিয়ে পর্যন্ত আমরা একটি মনিটরিং সেল করেছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের পাশে আমরা ২৪ ঘণ্টা আছি। এগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। নিজ নিজ আঙিনা, স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যারা ঈদে দেশে ফিরছেন তারা বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করবেন। ডেঙ্গু মুক্ত এটা নিশ্চিত না হয়ে কেউ ঘরমুখো হবেন না। এতে আপনার জীবনের ঝুঁকি আছে। এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা। তিনি গণভবনে নেমেই যে কথাগুলো বলেছেন, আমি সে কথাগুলো আপনাদের বললাম।’

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে লন্ডনে থাকা অবস্থাতেও প্রতিনিয়ত দলের নেতা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্দেশনা দেন। এছাড়াও লন্ডন থেকে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়েও দলীয় নেতাদের জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জনগণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সজাগ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ, ১৪দলসহ সহযোগী ও সংগঠনের নেতারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করলে জনগণের ডোর-টু-ডোর কর্মসূচি দৃশ্যমান হয় না।

এর আগে মঙ্গলবার (৬আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের ফটোসেশনের জন্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা না করার আহ্বান জানান। ওইদিন তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, ঢাকা সিটির প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। নেত্রী এটা জানতে চেয়েছেন। আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন। নেত্রী কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মনিটরিং করছেন। ’

ওইদিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, দলীয় সংসদ সদস্য, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা আমরা মীন করতে চাই যে, কর্মসূচিটি আমরা সিনসিয়ারলি এবং সিরিয়াসলি পালন করছি। জনস্বার্থে, আমাদের দলের স্বার্থে, নেত্রীর নির্দেশনায় দেশের স্বার্থে এই কাজটি আমরা করছি। ’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন